যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুঁশিয়ারির পরপরই তেহরান অত্যন্ত কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, আমেরিকার যেকোনো আগ্রাসনের মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘ট্রিগারে আঙুল’ রেখে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছে। যেকোনো হামলার তাৎক্ষণিক ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে।
সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং তা দমনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি দীর্ঘ পোস্টে ইরানকে সতর্ক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের পাল্টা বার্তা: আকাশ-জল-স্থলে প্রতিরোধের প্রস্তুতি
ট্রাম্পের সতর্কবার্তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, “আমাদের সাহসী সেনারা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। মাতৃভূমির আকাশ, স্থল বা সমুদ্রসীমানায় কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব হবে অত্যন্ত দ্রুত ও শক্তিশালী।”
আরাকচি আরও উল্লেখ করেন যে, গত বছরের জুনে ইসরায়েলি হামলা এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী পদক্ষেপগুলো থেকে ইরান ‘গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা’ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “অতীতের সেই ১২ দিনের সংঘাত আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও গভীর ও দ্রুত কার্যকর করার সক্ষমতা দিয়েছে।”
‘বিশাল নৌবহর’ ও আলোচনার প্রস্তাব
ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে ট্রাম্প তার পোস্টে একটি ‘বিশাল নৌবহর’ (Massive Armada) এগিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, এই বহর প্রয়োজনে সহিংসভাবে এবং দ্রুততম সময়ে তাদের লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম।
একইসঙ্গে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখেন। ট্রাম্প বলেন, “আশা করি ইরান পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে একটি ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছাতে দ্রুত আলোচনায় বসবে। সময় খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।” তিনি গত জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার প্রসঙ্গ টেনে সতর্ক করেন, চুক্তিতে রাজি না হলে এবারের হামলা হবে আরও ভয়াবহ।
শক্তি প্রদর্শন বনাম কূটনৈতিক অবস্থান
মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আদনান হায়াজনেহ মনে করেন, এই রণতরী পাঠানো মূলত ওয়াশিংটনের ‘মাসল ফ্লেক্সিং’ বা শক্তির প্রদর্শনী। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে এই বার্তাই দিতে চাইছে যে, তাদের কথা না মানলে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বন্দুকের নলের মুখে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “হুমকি এবং আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না। ইরান সবসময়ই সম্মানজনক ও জবরদস্তিমুক্ত একটি ন্যায্য পারমাণবিক চুক্তির পক্ষে।”
কূটনৈতিক তৎপরতা
এদিকে, সংঘাত এড়াতে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান পুনরায় পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় বসতে আগ্রহী হতে পারে। এছাড়া মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তিও উত্তেজনা প্রশমনে উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

