সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে বুধবার রাতে দেখা মিলল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আসল রোমাঞ্চের। তবে সব আলো কেড়ে নিলেন একজনই—কুইন্টন ডি কক। প্রায় তিন বছর পর ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে ফিরেই নিজের জাত চেনালেন এই প্রোটিয়া তারকা। তার খুনে সেঞ্চুরিতে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২২২ রানের বিশাল লক্ষ্য দক্ষিণ আফ্রিকা টপকে গেল অনেকটা হেসেখেলেই। ৭ উইকেটের এই জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত করল স্বাগতিকরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধটা অবশ্য ছিল শুধুই ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ব্র্যান্ডন কিং ও শিমরন হেটমায়ারের ব্যাটে চড়ে শুরুতেই চালকের আসনে বসে সফরকারীরা। এরপর শেষদিকে শারফেন রাদারফোর্ড ২৪ বলে ৫৭ রানের ঝড় তুললে ৪ উইকেটে ২২১ রানের পাহাড় গড়ে উইন্ডিজ। তবে প্রোটিয়া স্পিনার কেশব মহারাজের জাদুকরী ১৫তম ওভারটিই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। ওই এক ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন পাওয়েল ও হেটমায়ারের (৭৫) গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ডি কক যেন একাই প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পণ করেছিলেন। মাত্র ৪৩ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। ৪৯ বলের ইনিংসে ১০টি ছক্কা আর ৬টি চারে সাজানো তার ১১৫ রানের ইনিংসটি ছিল এক কথায় চোখ ধাঁধানো। এই ইনিংসের পথেই তিনি ফাফ ডু প্লেসিকে টপকে টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বনে যান এবং স্পর্শ করেন ১২ হাজার রানের মাইলফলক।
ডি কককে যোগ্য সঙ্গ দেন রায়ান রিকেলটন। তিন নম্বরে নেমে তিনিও খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ৭৭ রানের হার না মানা ইনিংস। তাদের ১৬২ রানের জুটিতে ভর করে ১৫ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফিল্ডিংয়ে জেসন হোল্ডারের সহজ ক্যাচ মিস আর বোলারদের লাইন-লেন্থহীন বোলিংয়ের মাশুল বড়ভাবেই দিতে হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। নতুন কোচ শুকরি কনরাডের অধীনে এটিই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়।

