আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ১৫ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা এবং হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানকেই শেষ কথা বলে মনে করছে না ওয়াশিংটন।
হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য নিয়ে মার্কিন প্রশাসন খুব একটা উদ্বিগ্ন নয়। আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখেই নেতানিয়াহু এমন রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করছেন বলে ধারণা ওয়াশিংটনের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, “নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা আমরা বুঝি। গাজায় সামরিক হামলা সীমিত রাখাসহ মূল বিষয়গুলোতে তিনি ওয়াশিংটনের নির্দেশনা মেনে চললে এই ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্যে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।”

রবিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানান, ১৫ দফার এই খসড়া প্রস্তাবটি ইসরায়েল মেনে নিচ্ছে না। তিনি বলেন, “হামাসকে পুরোপুরি অস্ত্রমুক্ত না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজা থেকে কোনো সৈন্য প্রত্যাহার করবে না। আর এই অস্ত্রমুক্তকরণের অর্থ হলো তাদের হালকা ও ভারী—সব ধরনের অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার পর এটিই দেশটিতে প্রথম নির্বাচন। রাজনৈতিকভাবে চাপে থাকা নেতানিয়াহু একদিকে যেমন দেশের ডানপন্থী ও গোঁড়া ভোটারদের শান্ত রাখতে চাইছেন, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।
দীর্ঘ আলোচনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ এই ১৫ দফা শান্তি রূপরেখার কথা নিশ্চিত করেন। ‘বোর্ড অব পিস’-এর অধীনে তৈরি এই প্রস্তাবে গাজায় যুদ্ধবিরতি, হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ অস্ত্রসংবরণ এবং ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের পর আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীর (আইএসএফ) মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে।
হামাস এই চুক্তির শর্তাবলীতে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছিল এবং তা বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারীদের চাপ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও ইসরায়েল সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে বাস্তবায়ন কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘কান নিউজ’-এর তথ্যমতে, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা এলেও রাফাহ এলাকায় আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনীর (আইএসএফ) প্রথম ঘাঁটি তৈরির প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ীই এগোচ্ছে। গাজার হাই কমিশনার নিকোলে ম্লাদেনোভ নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং আন্তর্জাতিক তদারকি ও প্রত্যক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই এই অস্ত্রসংবরণ ও সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপরও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যে একটি দৃশ্যমান কূটনৈতিক সাফল্য পাওয়ার লক্ষ্যে নেতানিয়াহুর ওপর মার্কিন প্রশাসনের চাপ আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিষেশজ্ঞরা।

