Tuesday, August 11, 2026
26.7 C
Bangladesh

“ঈশ্বরের ওষুধ” থেকে নিষিদ্ধ নেশা: আমেরিকার মাদক ইতিহাসের বিবর্তন

উনবিংশ শতাব্দীতে আমেরিকার চিত্র ছিল আজকের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখন কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল না। ১৮৫০-এর দশকে হাইপোডার্মিক সূঁচ আবিষ্কারের পর মরফিন হয়ে ওঠে যুদ্ধের মাঠের প্রধান ব্যথানাশক। সে সময় মুদি দোকান থেকে শুরু করে ওষুধের দোকানেও কোকেন ও আফিম পাওয়া যেত অত্যন্ত সহজলভ্যভাবে। এমনকি ১৯০৩ সাল পর্যন্ত জনপ্রিয় পানীয় কোকা-কোলাতেও কোকেন ব্যবহার করা হতো।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, উনবিংশ শতাব্দীতে মাদকাসক্তদের বড় অংশই ছিলেন শ্বেতাঙ্গ, মধ্যবিত্ত নারী। চিকিৎসকরা মাসিক যন্ত্রণা বা পেটের সমস্যার জন্য মরফিন ব্যবহারের পরামর্শ দিতেন। তৎকালীন সমাজে মাদকাসক্তিকে অপরাধ নয়, বরং নাচ বা ধুমপানের মতো একটি “মন্দ অভ্যাস” হিসেবে দেখা হতো। ১৯২০-এর দশকের পর থেকে এই ধারণা বদলাতে শুরু করে এবং মাদক ব্যবহারকে অপরাধ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাথে যুক্ত করা হয়।

১৯০৬ সালে ‘পিউর ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাক্ট’ এবং পরবর্তীতে ১৯১৪ সালের ‘হ্যারিসন অ্যান্টি-নারকোটিক অ্যাক্ট’ পাসের মাধ্যমে মাদকের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে হিরোইন ও গাঁজার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়।

২০০০ সালের ওএনডিসিবি (ONDCP) রিপোর্ট অনুযায়ী পরিসংখ্যান:

  • গাঁজা: প্রতি মাসে প্রায় ১২ মিলিয়ন মানুষ ব্যবহার করতেন।
  • কোকেন: প্রায় ৫.৭৪ মিলিয়ন নিয়মিত বা অনিয়মিত ব্যবহারকারী।
  • ব্যয়: মাদক সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসে ক্ষতি ছিল ১৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

উপসংহার

সমাজবিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু ওয়েইলের মতে, মানুষের চেতনা পরিবর্তনের এক সহজাত প্রবৃত্তি থেকে মাদকের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। বর্তমানে কঠোর আইন এবং শিক্ষামূলক কর্মসূচি (যেমন D.A.R.E.) সত্ত্বেও, মাদকের সহজলভ্যতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এটি কেবল আইনি সমস্যা নয়, বরং একটি জটিল সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয়

More like this
Related

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহঃ) : জীবন ও তৎপরতার সংক্ষিপ্ত রূপ

আরেফিন আল ইমরান সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে একজন মহত্তম ব্যক্তিকে তুলে...

বাজার অস্থিরতা: কম্পিউটার এক্সেসরিজের হঠাৎ করে লাগামহীন দাম কেন? কবে ফিরবে স্বাভাবিক দামে ?

দেশের বাজারে কম্পিউটার এক্সেসরিজ বা ইলেকট্রিক পণ্যের বাজার হঠাৎ...

বিশ্বজুড়ে চিনির বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে,ওষুধি গাছ ‘স্টেভিয়া’

অ্যাস্টার পরিবারের (Asteraceae) ফুলের উদ্ভিদ যা হচ্ছে স্টেভিয়া, (Stevia...