১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ার শুকর খামারিদের মধ্যে প্রথম নিপাহ ভাইরাসের (NiV) প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ‘সুঙ্গাই নিপাহ’ নামক গ্রাম থেকে এই ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে। এটি মূলত ‘হেনিপাভাইরাস’ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। যদিও শুরুতে এটিকে একটি আঞ্চলিক সমস্যা মনে করা হয়েছিল, তবে বর্তমানে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এটিকে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ‘উদীয়মান সংক্রামক ব্যাধি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
উৎস ও সংক্রমণ প্রক্রিয়া নিপাহ ভাইরাসের প্রাকৃতিক আবাস হলো ‘টেরোপাস’ (Pteropus) প্রজাতির ফলখেকো বাদুড়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বাদুড়গুলো ভাইরাসটি বহন করলেও নিজেরা অসুস্থ হয় না। সাধারণত বাদুড়ের লালা, প্রস্রাব বা তাদের খাওয়া আধা-খাওয়া ফলের সংস্পর্শে এলে শুকর বা অন্য প্রাণী সংক্রমিত হয়। মানুষ সাধারণত এই সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে বা বাদুড়ের দূষিত ফল খেলে আক্রান্ত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতে মানুষের থেকে মানুষের সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লক্ষণ ও ভয়াবহতা মানুষের শরীরে প্রবেশের পর ৪ থেকে ১৮ দিনের মধ্যে এই ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে এটি দ্রুত মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনসেফালাইটিসে রূপ নেয়, যার ফলে রোগী তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোমায় চলে যেতে পারে। নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুর হার অত্যন্ত বেশি এবং এখন পর্যন্ত এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি।
আর্থ-সামাজিক প্রভাব নিপাহ ভাইরাসের প্রভাব কেবল স্বাস্থ্যের ওপরই নয়, অর্থনীতির ওপরও ব্যাপক। ১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় সংক্রমণ ঠেকাতে প্রায় ১০ লাখ শুকর মেরে ফেলতে হয়েছিল, যা দেশটির কৃষি খাতে বিশাল ধস নামিয়েছিল। ভাইরাসটি ক্রমাগত মানুষের সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং নতুন নতুন স্ট্রেইন বা রূপ তৈরি করছে। তাই বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং ব্যক্তিগত সচেতনতাই এখন এই ভাইরাস থেকে বাঁচার প্রধান উপায়।

