অ্যাস্টার পরিবারের (Asteraceae) ফুলের উদ্ভিদ যা হচ্ছে স্টেভিয়া, (Stevia rebaudiana) । বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য বিকল্প হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার বিস্ময়কর উদ্ভিদ স্টেভিয়া (Stevia rebaudiana)। বিশেষ ভাবে ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে স্টেভিয়া অসাধারন ভূমিকা পালন করছে।
অ্যাস্টার (Asteraceae) পরিবারভুক্ত এই ভেষজ উদ্ভিদটি মূলত ব্রাজিল ও সাউথ আফ্রিকার প্যারাগুয়ের স্থানীয় গাছ। এর পাতায় রয়েছে স্টেভিওল গ্লাইকোসাইড (বিশেষ করে স্টেভিওসাইড এবং রিবাউডিওসাইড A) নামক রাসায়নিক উপাদান। বিস্ময়কর বিষয় হলো, উদ্ভিদটির নির্যাস সাধারণ এক টেবিল চামচ চিনির তুলনায় প্রায় ৩০০ গুণ বেশি মিষ্টি হতে পারে। অথচ অবাক করা বিষয় এতে কোনো ক্যালরি নেই এবং এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রায় কোনো প্রকার প্রভাব ফেলে না, যা একে ‘নন-গ্লাইসেমিক’ সুইটনার হিসেবে অনন্য করে তুলেছে।
স্টেভিয়া একটি কোমল বহুবর্ষজীবী ভেষজ যা ৩০.৫-৮০ সেমি (১-২.৫ ফুট) উচ্চতায় পৌঁছায়। আয়তাকার সুগন্ধযুক্ত পাতা ২.৫ সেমি (১ ইঞ্চি) লম্বা, একটি বিশিষ্ট মধ্যশিরা সহ এবং কান্ড বরাবর বিপরীতভাবে সাজানো থাকে। ছোট নলাকার ফুলগুলিতে পাঁচটি সাদা পাপড়ি থাকে এবং প্রান্তিক গুচ্ছগুলিতে জন্মায়; পাতার স্বাদ উন্নত করার জন্য সাধারণত ফুলগুলি সরিয়ে ফেলা হয়। বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম কঠিন, এবং বেশিরভাগ গাছ কাটা থেকে জন্মানো হয়। উদ্ভিদটির জন্য সমৃদ্ধ, সুনিষ্কাশিত মাটি প্রয়োজন এবং উষ্ণ আর্দ্র জলবায়ুতে এটি ভালোভাবে জন্মায়।
স্টেভিয়া পাতা গুয়ারানি জনগণ পনেরশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহার করে আসছে। ঐতিহ্যগত ভাবে, এই উদ্ভিদটি ইয়েরবা মেট এবং অন্যান্য চা মিষ্টি করার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং লোক চিকিৎসায় এর বেশ কিছু ব্যবহার হয়। উদ্ভিদটির প্রথম বৈজ্ঞানিক রেকর্ড ১৮৯৯ সালে পাওয়া যায়, যখন সুইস উদ্ভিদবিদ মোসে গিয়াকোমো বার্তোনি মিষ্টি স্বাদের এই উদ্ভিদ আবিষ্কারের ঘোষণা দেন এবং এর নাম দেন ইউপেটোরিয়াম রেবাউডিয়ানাম। ১৯৭০-এর দশকের গোড়ার দিকে জাপানি বিজ্ঞানীরা প্রথম বাণিজ্যিকভাবে স্টেভিয়া থেকে প্রাপ্ত মিষ্টি তৈরি করেন, যা দ্রুত সেই দেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। কার্সিনোজেনের উদ্বেগের কারণে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার পর, ২০০৮ সালে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) নির্দিষ্ট গ্লাইকোসাইড নির্যাস অনুমোদন করে। ২০১১ সালে স্টেভিয়া কে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিষ্টি পাতা হিসাবে অনুমোদন দেন।
যেহেতু, চিনিকে বলা হয় ‘সাদা বিষ’ এবং চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়েছে । অন্যদিকে স্টেভিয়া একটি প্রাকৃতিক ও ওষুধি গাছ এবং জিরো-ক্যালরি সমৃদ্ধ । যারা মিষ্টি খেতে ভালোবাসেন কিন্তু স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিতে চান না, তাদের জন্য স্টেভিয়া একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান। বর্তমানে গুঁড়ো আকারে বা তরল নির্যাস হিসেবে বাজারে স্টেভিয়া সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।

