থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে এক ১৪ বছর বয়সী কিশোরের এলোপাতাড়ি গুলিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ আটজন নিহত হওয়ার পর দেশে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। হামলার পর অভিযুক্ত কিশোর নিজেও আত্মহত্যা করেছে।
শুক্রবার ভোরে নিজের ফ্ল্যাটে ৭৩ বছর বয়সী দাদা ও ৭৪ বছর বয়সী দাদিকে মাথায় গুলি করে হত্যার মাধ্যমে রক্তক্ষয়ী এই ঘটনার সূচনা করে ওই কিশোর। এরপর আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলি লুকিয়ে নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতোই স্কুলবাসে চড়ে বসে সে।
রাজধানীর নামকরা ‘দেবসিরিন স্কুল’-এ পৌঁছে প্রথম দুই ক্লাসে স্বাভাবিকভাবে অংশ নিলেও সকাল পৌনে ১০টার দিকে হঠাৎ করেই পকেট থেকে পিস্তল বের করে গুলি চালাতে শুরু করে সে। পুলিশ জানায়, হামলাকারী প্রথমে ভবনের ছয়তলায় উঠে তিন শিক্ষককে হত্যা করে। গুলির শব্দ শুনে পরিস্থিতি দেখতে আসা স্কুলের উপ-পরিচালক ও পরিচালকের সচিবকেও সিঁড়িতে গুলি করে সে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কিশোরটি নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে। প্রাথমিক অবস্থায় পাঁচজনের মৃত্যু হলেও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিক্ষার্থীসহ মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় আটজনে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন।
তদন্তে জানা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি তার দাদার নামে বৈধভাবে নিবন্ধিত ছিল। কিশোরের ব্যবহৃত কম্পিউটার ও মোবাইল পরীক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে হওয়া বিভিন্ন বন্দুক হামলার ভিডিও ক্লিপ পাওয়া গেছে। স্বজনরা তাকে শান্ত স্বভাবের বললেও, সে বেশিরভাগ সময় ঘরের দরজা বন্ধ করে সহিংস ভিডিও গেম খেলে পার করত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ ও সমবেদনা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানান, নতুন আইন পাসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রকাশ্যে অস্ত্র বহনের অধিকার পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। নতুন নীতি অনুযায়ী, কেবল অন-ডিউটিতে থাকা সরকারি কর্মকর্তারা ছাড়া আর কেউ প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন করতে পারবেন না।

