রহমত ও বরকতের মাস পবিত্র রমজান দোরগোড়ায়। ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুর ছাড়া যেন ইফতারি অপূর্ণ থেকে যায়। তবে এবারের রমজানে সাধারণ মানুষের জন্য খেজুর কেনা এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আমদানি শুল্ক কমানো এবং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার দাবি করা হলেও, রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে খেজুরের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। উদ্দেশ্য ছিল—সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে খেজুরের দাম রাখা। কিন্তু বাজারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্রেতাদের অভিযোগ, শুল্ক কমানোর সুফল কেবল আমদানিকারক ও বড় ব্যবসায়ীদের পকেটেই আটকে আছে; সাধারণ ভোক্তারা এর কোনো সুবিধাই পাচ্ছেন না।
ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধির পেছনে নানা অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন। আমদানিকারকদের দাবি, বিশ্ববাজারে খেজুরের দাম বৃদ্ধি এবং বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতার কারণে খরচ বেড়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, মূলত ‘আর্টিফিশিয়াল ক্রাইসিস’ বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
একদিকে পর্যাপ্ত আমদানির তথ্য দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক, অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন—পাইকারি বাজারে তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এই হাতবদলের আবর্তে সাধারণ ক্রেতার পকেট কাটা যাচ্ছে।
কারওয়ান বাজারে খেজুর কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান বলেন:
“সরকার শুল্ক কমালো কিন্তু বাজারে তো তার কোনো প্রভাব দেখছি না। গত বছর যে খেজুর ২০০ টাকায় কিনেছি, এখন সেটা ৩৫০ টাকা। সাধারণ মানুষের জন্য ইফতার করাও এখন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। যেখানেই অসংগতি বা কৃত্রিম মজুদ পাওয়া যাবে, সেখানেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভোক্তাদের দাবি, কেবল জরিমানা নয়, বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ এবং নিয়মিত করা প্রয়োজন।
উপসংহার: রমজানে সংযম ও ত্যাগের শিক্ষা থাকলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের অতি-মুনাফার লোভে বাজার এখন অশান্ত। খেজুরের এই বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ইফতারের টেবিলে সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস আরও দীর্ঘ হবে।

