ভারত পাকিস্তান ম্যাচ মানেই এক আলাদা উত্তেজনা। দুই দেশের সমর্থকদের মাঝে থাকে বাড়তি স্নায়ুচাপ। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারত ও পাকিস্তানের হাইভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তবে পাকিস্তানি সমর্থকদের মনে ভয় অন্য এক ঝড় নিয়ে—তা হলো বিশ্বমঞ্চে ভারতের কাছে আবারও ধরাশায়ী হওয়ার সেই চিরচেনা শঙ্কা।
পরিসংখ্যানও খুব একটা স্বস্তি দিচ্ছে না পাকিস্তানকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের বিপক্ষে আটবারের সাক্ষাতে পাকিস্তান জয় পেয়েছে মাত্র একবার, তাও ২০২১ সালে। বাকি সবকটি ম্যাচেই শেষ হাসি হেসেছে ভারত। তাই সালমান আলী আঘার দল যখন মাঠে নামবে, তখন পাকিস্তানি ভক্তরা রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের চেয়ে অলৌকিক কিছুর ওপরই বেশি ভরসা রাখছেন।
মাঠের লড়াইয়ের আগে রাজনৈতিক উত্তাপও বেশ ছড়িয়েছে। শুরুতে পাকিস্তান ম্যাচটি বয়কটের হুমকি দিলেও আইসিসির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তারা সরে আসে। তবে এই বয়কটের ডাক দেওয়াটাকেই পাকিস্তানি সমর্থকরা এক প্রকার ‘নৈতিক বিজয়’ হিসেবে দেখছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই বৈরী প্রতিবেশীর রাজনৈতিক দ্বৈরথ এখন খেলার মাঠেও স্পষ্ট। একসময়ের বন্ধুত্বপূর্ণ আড্ডা আর করমর্দনের জায়গা নিয়েছে অসহিষ্ণুতা আর বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গি। সীমান্ত উত্তেজনা এখন খেলার স্পিরিটকেও গ্রাস করেছে।
তবে পাকিস্তানের উগ্র জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা এবার অনেকটাই স্তিমিত। উল্টো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের দল নিয়ে চলছে হাসাহাসি আর ট্রল। ভ্যালেন্টাইনস ডের পরদিনই খেলা হওয়ায় অনেকেই মিম শেয়ার করে লিখছেন, “১৪ তারিখের পর ১৫ তারিখেও হৃদয় ভাঙার প্রস্তুতি চলছে।”
এতসব নেতিবাচকতার পরেও রবিবার সন্ধ্যা নামতেই থমকে যাবে পাকিস্তান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি দেখতে চায়ের টং দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত রেস্তোরাঁ—সবখানেই ভিড় জমাবেন সব বয়সের ক্রিকেটপ্রেমীরা। ডেলিভারি বয় থেকে শুরু করে অফিসফেরত মানুষ, সবার চোখ আটকে থাকবে মুঠোফোন বা টিভির পর্দায়। বিরিয়ানি আর পানীয়ের সঙ্গে চলবে টানটান উত্তেজনার এই লড়াই দেখা।
করাচির ক্রিকেটপ্রেমী থেকে শুরু করে বিশ্লেষক—অধিকাংশেরই মত, ম্যাচে ভারতই পরিষ্কার ফেভারিট। স্থানীয় এক ক্রিকেট লিগের ম্যাচে অংশ নেওয়া তরুণদের মতে, ভারতের জয়ের সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ। দেশটির সাধারণ মানুষের ধারণা, কেবল ক্রিকেট নয়, সবক্ষেত্রেই ভারত এখন পাকিস্তানের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে।
টিভি টকশো-গুলোতে ক্রিকেট বোর্ডের অব্যবস্থাপনা আর দলের মানসিক দুর্বলতা নিয়ে চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষণ। তবে এর মধ্যেও আশার আলো হয়ে আছেন স্পিনার উসমান তারিক। তার দুর্বোধ্য স্পিন অ্যাকশন ভারতের বিপক্ষে ‘গোপন অস্ত্র’ হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
মাঠের বাইরের আচরণ, বিশেষ করে ভারতীয় দলের করমর্দন এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি পাকিস্তানিরা সহজভাবে নিতে পারছেন না। রাজনীতির ছায়া খেলাধুলায় পড়াকে অনেকেই দেখছেন নেতিবাচক দৃষ্টিতে।
তবুও রবিবার সকালটা শুরু হবে পাড়া-মহল্লায় ক্রিকেট খেলার ধুম দিয়ে, আর শেষ হবে কলম্বোর মহারণ দেখে। পাকিস্তানে সাধারণত জুমার নামাজের সময় জনজীবন যেভাবে স্থবির হয়ে পড়ে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সময়ও ঠিক একই নীরবতা নেমে আসে। কারণ দিনশেষে, এই একটি খেলা পুরো জাতিকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলার ক্ষমতা রাখে।

