বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং ভোটারবিহীন প্রহসন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ভারতে নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভোটগ্রহণ শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে শেখ হাসিনা দাবি করেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে দূরে রেখে এবং ভোটারদের উপস্থিতি ছাড়াই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি এই তথাকথিত নির্বাচন বাতিলের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “দেশবাসী এই প্রহসনের ভোট প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভোটারবিহীন এই নির্বাচন সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।”
দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’ ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রায় তিন দশক পর এই প্রথম কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। হাসিনা একে গণতন্ত্রের জন্য ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শেখ হাসিনা দাবি করেন, ঢাকার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রই ফাঁকা ছিল এবং নির্বাচন কমিশন ভোটার উপস্থিতির যে তথ্য দিচ্ছে তা ‘অবিশ্বাস্য ও প্রশ্নবিদ্ধ’।
তিনি অবিলম্বে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজবন্দিদের মুক্তি এবং একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রায় ১৮ মাস পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে প্রধানত বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি বড় জয়ের পথে রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, এনডিটিভি এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস (১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী)

