দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষা আর রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এক অভাবনীয় জনরায়ে, বাংলাদেশের শাসনভার গ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে ১৭ বছরের নির্বাসন ও দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য ও দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা (ম্যাজিক ফিগার ১৫১ এর বেশি) অর্জন করেছে। অনেক আসনেই দলটির প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তারেক রহমান নিজে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।
তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক বিজয়ে বিশ্বমঞ্চ থেকে অভিনন্দনের ঢল নেমেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বার্তায় অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, “এই জয় বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন।” এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক এই উত্তরণকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
বিজয় পরবর্তী এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তারেক রহমান দেশবাসীকে শান্ত থাকার এবং বিজয় মিছিলে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন:
“এই বিজয় আমার ব্যক্তিগত নয়, এই বিজয় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের। আমরা এমন এক রাষ্ট্র গড়তে চাই যেখানে আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার হবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং গত দেড় দশকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করা।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত সফলভাবে এই নির্বাচন সম্পন্ন করার মাধ্যমে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরের পথ সুগম করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এক নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার পথে পা বাড়াল, যেখানে জনগণের ইচ্ছাই হবে শেষ কথা।

