নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব ধরনের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্ল্যাটফর্মে এখন থেকে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহককে (P2P) একবারে ১ হাজার টাকার বেশি পাঠাতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে জারি করা এক জরুরি চিঠিতে জানানো হয়েছে, এই বিধিনিষেধ ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত অর্থাৎ মোট ৭২ ঘণ্টা কার্যকর থাকবে। এই সময়ে লেনদেনের নিয়মগুলো হবে নিম্নরূপ:
একক লেনদেন সীমা: একবারে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকার বেশি পাঠানো যাবে না।
দৈনিক সীমা: একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারবেন।
লেনদেনের সংখ্যা: দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার অর্থ স্থানান্তর করা যাবে।
ইন্টারনেট ব্যাংকিং: এই সময়ে পি-টু-পি ইন্টারনেট ব্যাংকিং (IBFT-এর মাধ্যমে লেনদেন) সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে কিছু সেবা এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। মার্চেন্ট পেমেন্ট (কেনাকাটার বিল) এবং ইউটিলিটি বিল (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিক লেনদেন বজায় থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের সময় অবৈধ অর্থের প্রবাহ বন্ধ এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা রোধ করতেই এই সাময়িক কঠোরতা।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে একটি ‘কুইক রেসপন্স সেল’ গঠন করতে হবে। সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন পরিলক্ষিত হলে তা দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ব্যাংকগুলোকে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা ও উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিএফআইইউ-তে প্রতিবেদন (CTR) দাখিল করতে বলা হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার পর থেকে পুনরায় পূর্বের নিয়মিত লেনদেন সীমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বহাল হবে বলে নিশ্চিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার ও বিএফআইইউ (ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬)।

