আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের বহুল প্রতীক্ষিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এটিই দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। তবে ভোটগ্রহণের মাত্র চার দিন আগে রাজধানীসহ দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হয়ে উঠেছে।
গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তজনা তৈরি হয়। পুলিশ ও বিজিবি বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, টিয়ার গ্যাস এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ সময় বেশ কিছু আন্দোলনকারী আহত হন। মূলত সরকারি চাকুরেদের নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক কিছু দাবিকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মূল লড়াই হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামী-র মধ্যে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুই দশক নির্বাসিত থাকার পর দেশে ফিরে প্রচারণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি এককভাবে সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী এবং সেই সাথে জামায়াতের সাথে ‘জাতীয় ঐক্য সরকার’ গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের হাত ধরে গঠিত ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশকে আকৃষ্ট করছে। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এবার একই দিনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে একটি দেশব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই সনদে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই মেয়াদে (১০ বছর) সীমাবদ্ধ করা এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। ভোটারদের একই সঙ্গে দুটি ব্যালট দেওয়া হবে—সাদা ব্যালট সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি ব্যালট গণভোটের জন্য।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ার পর সংসদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের কাজের ধরণ, সময় আর প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো নিয়ে এক ধরনের অস্পষ্টতা ও আইনী জটিলতার প্রশ্ন সামনে আসছে। নির্বাচনের পর সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়েও নানা আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এমনকি এ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ করছেন। টিআইবি’র তথ্য মতে তফসিল পরবর্তী সহিংসতায় ইতোমধ্যে ১৫ জন নিহত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের একটি বড় পরীক্ষা। তবে নির্বাচনী সহিংসতা ও বড় দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

