Thursday, July 30, 2026
27.3 C
Bangladesh

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের অনিশ্চয়তায় অর্থনৈতিক চাপে আইসিসি

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি খেলবে না পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকার ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে

আইসিসির উদ্বেগ কূটনৈতিক উদ্যোগ
পাকিস্তান সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) গভীর উদ্বেগে পড়েছে। মূলত, বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাই আইসিসির মাথাব্যথার প্রধান কারণ। তাই, তারা দ্রুত এই সংকট সমাধানের জন্য নেপথ্য কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে এখনো প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি। ফলে, আইসিসি মনে করছে, এই সময়ের মধ্যে একটি সম্মানজনক সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব।

সমঝোতার প্রচেষ্টা
আইসিসি পাকিস্তানের উদ্বেগ ও আপত্তিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তাছাড়া, বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী ক্রিকেট বোর্ডও এই সংকট নিরসনে আইসিসিকে সহায়তা করছে। যদিও পাকিস্তান সরকার ম্যাচ বর্জনের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে, অতীতে নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক কারণে বিশ্বকাপ ম্যাচ বর্জনের নজির ক্রিকেট বিশ্বে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবং ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ও নিউজিল্যান্ড কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলেনি।

পাকিস্তানের যুক্তি আইনি ভিত্তি
‘ডন’-এর মতে, কেউ কেউ পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তকে ভুল বা অযৌক্তিক বলে মনে করছেন। কারণ, আগের ঘটনাগুলোতে স্পষ্ট কারণ দর্শানো হয়েছিল। তবে, পিসিবি (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড) খুব সতর্কভাবেই এগোচ্ছে। বিশেষ করে, তারা ২০১৮ সালে ভারতের বিরুদ্ধে আইসিসির ডিসপিউট রেজল্যুশন কমিটি (ডিআরসি)-তে করা মামলার ওপর নির্ভর করতে চাইছে।

পুরানো দ্বন্দ্বের জের
২০১৪ সালে পিসিবি ও বিসিসিআই-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। শর্ত ছিল, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দুই দেশ ছয়টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে। বিনিময়ে, পাকিস্তান আইসিসির ‘বিগ থ্রি’ রাজস্ব মডেলে সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু, ভারত সেই চুক্তি অনুযায়ী সিরিজ খেলেনি। তখন পিসিবি কারণ জানতে চাইলে বিসিসিআই প্রথমে নীরব থাকে এবং পরে ভারত সরকারের অনুমতির দোহাই দেয়। তবে, তারা এর কোনো লিখিত প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

সম্ভাব্য পরিণতি
পিসিবি আশঙ্কা করছে, আইসিসিতে বিসিসিআই-এর প্রভাবের কারণে রায় তাদের বিপক্ষে যেতে পারে। যদি এমন হয়, তবে পাকিস্তানের ওপর বড় অঙ্কের জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। সেক্ষেত্রে, পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে (CAS) যাওয়ার পরিকল্পনাও করছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ইস্যু পাকিস্তানের সমর্থন
সম্প্রতি নিরাপত্তাজনিত কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন নাকচ হওয়ায় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই ঘটনায় পাকিস্তান বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানের সিদ্ধান্তে এই ঘটনারও একটি পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে।

আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই টাকার ঝনঝনানি। গণমাধ্যমের মতে, এই একটি ম্যাচের বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার। সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ ও টিকিট বিক্রি থেকে বিশাল আয় আসে। এমনকি, ম্যাচ চলাকালে ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের মূল্যই আকাশচুম্বী। তাই, ম্যাচটি না হলে আইসিসি ও সম্প্রচারকদের বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

আইসিসির কঠোর বার্তা
পাকিস্তানের ঘোষণার পর আইসিসি এক বিবৃতিতে পিসিবিকে ‘পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, নিজের ইচ্ছামতো ম্যাচ বাছাই করা বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের চেতনার পরিপন্থী।

মাঠের পরিস্থিতি
অন্যদিকে, খবর পাওয়া গেছে যে পাকিস্তান না খেললেও ভারতীয় দল নির্ধারিত সময়ে কলম্বোর মাঠে উপস্থিত থাকবে। যদি পাকিস্তান দল নির্দিষ্ট সময়ে মাঠে না আসে, তবে টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী ভারত ওয়াকওভার পাবে এবং পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করবে।

জনপ্রিয়

More like this
Related

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহঃ) : জীবন ও তৎপরতার সংক্ষিপ্ত রূপ

আরেফিন আল ইমরান সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে একজন মহত্তম ব্যক্তিকে তুলে...

বাজার অস্থিরতা: কম্পিউটার এক্সেসরিজের হঠাৎ করে লাগামহীন দাম কেন? কবে ফিরবে স্বাভাবিক দামে ?

দেশের বাজারে কম্পিউটার এক্সেসরিজ বা ইলেকট্রিক পণ্যের বাজার হঠাৎ...

বিশ্বজুড়ে চিনির বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে,ওষুধি গাছ ‘স্টেভিয়া’

অ্যাস্টার পরিবারের (Asteraceae) ফুলের উদ্ভিদ যা হচ্ছে স্টেভিয়া, (Stevia...