মস্তিষ্ক হল মানব অস্তিত্বের সবচেয়ে রহস্যময়ী এবং শক্তিশালী অঙ্গ। মস্তিষ্কের মাধ্যমেই কথা বলা থেকে শুরু করে হাঁটাচলা এবং এর থেকে জটিল কাজ চিন্তাভাবনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। মাত্র ১.৪ কেজি(৩পাউন্ড) ওজনের এই ক্ষুদ্র অঙ্গটি কোটি কোটি নিউরন আর তাদের মধ্যকার সিন্যাপটিক সংযোগের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।
মানুষের মস্তিষ্ক মূলত কোটি কোটি বিশেষায়িত কোষ বা নিউরন দিয়ে গঠিত। এই নিউরনগুলো একে অপরের সাথে ‘সিন্যাপ্স’ নামক সংযোগের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। যখন আমরা কিছু শিখি বা ভাবি, তখন এই সিন্যাপ্সগুলোর মাধ্যমে বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক সংকেত প্রবাহিত হয়। এটিই আমাদের জ্ঞানীয় কার্যকলাপের মূল ভিত্তি।
মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মস্তিষ্কের বিকাশকে মূলত তিনটি অংশে ভাগ করা যায়:
১. পশ্চাদমস্তিষ্ক (Hindbrain): এটি মেডুলা অবলংগাটা এবং পন্স নিয়ে গঠিত। হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো অতি প্রয়োজনীয় অনিচ্ছাকৃত কাজগুলো এখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়।
২. মধ্যমস্তিষ্ক (Midbrain): এটি অগ্র ও পশ্চাদমস্তিষ্কের সংযোগ সেতু হিসেবে কাজ করে এবং সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদানে ভূমিকা রাখে।
৩. অগ্রমস্তিষ্ক (Forebrain): এটি মস্তিষ্কের সবচেয়ে উন্নত অংশ, যা মানুষের বুদ্ধি ও চেতনার কেন্দ্র।
মস্তিষ্কের পেছনের দিকে থাকা ‘সেরিবেলাম’ বা ছোট মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখে। অন্যদিকে, অগ্রমস্তিষ্কের গভীরে থাকা ‘হাইপোথ্যালামাস’ আমাদের ক্ষুধা, তৃষ্ণা, শরীরের তাপমাত্রা এমনকি আবেগ ও হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষার প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।
মানুষের মস্তিষ্ক দুটি গোলার্ধে বিভক্ত, যা ‘কর্পাস ক্যালোসাম’ নামক তন্তুর মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে। মজার বিষয় হলো, আমাদের বাম গোলার্ধ শরীরের ডান অংশকে এবং ডান গোলার্ধ শরীরের বাম অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে। সাধারণত বাম গোলার্ধ ভাষা ও যুক্তি এবং ডান গোলার্ধ স্থানিক ধারণা ও সৃজনশীলতার কাজ করে।
মস্তিষ্কের কর্টেক্স বা ধূসর অংশটি চারটি প্রধান লোবে বিভক্ত:
১.ফ্রন্টাল লোব: নড়াচড়া ও উচ্চতর চিন্তা।
২.প্যারিয়েটাল লোব: স্পর্শ ও সংবেদন।
৩.টেম্পোরাল লোব: শ্রবণ ও স্মৃতি।
৪.অক্সিপিটাল লোব: দৃষ্টিশক্তি।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে যাদের মস্তিষ্ক যত বেশি ‘আবর্তিত’ বা কুঁচকানো, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা তত বেশি। মানুষের ক্ষেত্রে এই আবর্তন অত্যন্ত জটিল, যা আমাদের অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা করেছে।

