শিল্প বিপ্লবের পর পৃথিবী আর কখনোই এমন পরিবর্তন দেখেনি, যা এখন করে দেখাচ্ছে জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (Generative AI)। একসময় মনে করা হতো এআই শুধু বড় বড় মেশিন কলকারখানা পরিচালনা করবে, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। সৃজনশীল কাজ থেকে শুরু করে জটিল ডেটা অ্যানালাইসিস—সবখানেই এখন এআই-এর ব্যবহার।
দক্ষতায় পরিবর্তন: ‘কী জানি’ থেকে ‘কীভাবে ব্যবহার করি’
বিশ্বজুড়ে এখন চাকরির বাজারে দক্ষতা অভিজ্ঞতার সংজ্ঞায় বদলে গেছে,এখন শুধু প্রোগ্রামিং,কোডিং,পাইথন বা ভালো ইংলিশ জানলেই হবে না বরং এআই টুল ব্যবহার করে কীভাবে সেই কাজটিকে ১০ গুণ দ্রুত করা যায়, সেই দক্ষতাকে (AI Prompting) বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো।
নতুন পদের উত্থান, পুরনো পদের বিদায়
গোল্ডম্যান স্যাকস-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন পূর্ণকালীন চাকরি এআই দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে সবাই বেকার হয়ে যাবে।
হুমকিতে থাকা কাজ: কাস্টমার সাপোর্ট, ডাটা এন্ট্রি, এবং বেসিক গ্রাফিক ডিজাইনের মতো কাজে জনবল কমছে।
নতুন কাজের সুযোগ: ‘এআই এথিক্স স্পেশালিস্ট’, ‘মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার’ এবং ‘এআই ট্রেইনার’-এর মতো এমন সব পদের সৃষ্টি হচ্ছে যা পাঁচ বছর আগেও কল্পনাতীত ছিল।
চার দিনের কর্মদিবসের স্বপ্ন?
ইউরোপের অনেক দেশেই এখন এআই ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির গবেষণা চলছে । অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এআই যদি মানুষের কাজের বড় অংশ সামলে দেয়, তবে সপ্তাহে পাঁচ দিনের বদলে চার দিন কাজ করার সংস্কৃতি (4-day work week) বাস্তবে রূপ নিতে পারে। এতে কর্মজীবীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈষম্যের নতুন ঝুঁকি
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) সতর্ক করেছে যে, এআই উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। উন্নত দেশগুলো দ্রুত এই প্রযুক্তি গ্রহণ করে এগিয়ে গেলেও, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
“এআই মানুষকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করবে না, কিন্তু যে মানুষটি এআই জানে না,তাকে পরিবর্তন করে তার জায়গায় প্রতিস্থাপন করবে সে মানুষটিকে যে এআই জানে।
উপসংহার
চাকরির বাজার এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এটি কেবল অটোমেশন নয়, বরং মানুষের বুদ্ধিমত্তার সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক মেলবন্ধন। যারা এই পরিবর্তনের সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারবে, আগামীর কর্মবাজার হবে তাদেরই।

