রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং আংশিকভাবে পুনরায় চালু করার আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। তবে এই পদক্ষেপে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সীমান্তটি দিয়ে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বা যানবাহন চলাচল করতে পারবে না; এটি শুধুমাত্র পায়ে হেঁটে পারাপারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তাছাড়া, গাজায় আটকে থাকা সর্বশেষ ইসরায়েলি জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই ক্রসিং চালু করা হবে না বলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কঠোর শর্তাবলী ও নিরাপত্তা তল্লাশি :
রোববার রাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই শর্তগুলোর বিষয় স্পষ্ট করা হয়। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, হামাস যদি জীবিত জিম্মিদের মুক্তি এবং মৃতদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে “শতভাগ” সহযোগিতা নিশ্চিত করে, তবেই ‘সীমিত পরিসরে’ পথচারীদের জন্য সীমান্তটি খোলা হবে। সেই সঙ্গে, এই পথ ব্যবহারকারী প্রত্যেককে ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
রান গভিলির মরদেহের খোঁজে তল্লাশি :
এই বিলম্বের মূল কারণ হিসেবে পুলিশ অফিসার রান গভিলির মরদেহ উদ্ধার না হওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী রোববার নিশ্চিত করেছে যে, মরদেহটি খুঁজে বের করতে তারা উত্তর গাজার একটি কবরস্থানে অভিযান চালাচ্ছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র অসহযোগিতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে ওই ইসরায়েলি সেনার মরদেহের অবস্থান জানিয়েছি। যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিটি শর্ত আমরা পালন করেছি। এখন ইসরায়েলকে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বাধ্য করার দায়িত্ব মধ্যস্থতাকারীদের।”
কৌশলগত বিধিনিষেধ ও ত্রাণ সংকট :
গাজার প্রায় ২৩ লাখ বাসিন্দার জন্য রাফাহ হলো বাইরের দুনিয়ার সাথে যোগাযোগের একমাত্র দরজা। ২০২৪ সালের শুরু থেকেই সীমান্তের গাজা অংশের নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে। যদিও শান্তি কাঠামোতে (যা ট্রাম্প পরিকল্পনা নামে পরিচিত) সীমান্তটি পুরোপুরি সচল রাখার কথা ছিল, কিন্তু ইসরায়েলের বর্তমান অবস্থানে যানবাহন চলাচলের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।
‘দ্য প্যালেস্টাইন ল্যাবরেটরি’ বইয়ের লেখক ও বিশ্লেষক অ্যান্থনি লোভেনস্টাইন মনে করেন, এই বিধিনিষেধের পেছনে গভীর উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি বলেন, “এটি ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি উচ্ছেদ পরিকল্পনারই অংশ।” তাঁর মতে, কেবল পায়ে হাঁটার অনুমতি দেওয়ার অর্থ হলো—ফিলিস্তিনিদের গাজা ছেড়ে যাওয়া সহজ হবে, কিন্তু ফিরে আসা বা প্রয়োজনীয় পণ্য আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি আরও যোগ করেন, “মিশরের গুদামগুলোতে হাজার হাজার টন ত্রাণ সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে, কারণ সেগুলো হাতে বহন করে সীমান্তে আনা সম্ভব নয়।”
যুদ্ধবিরতির আলাপের মাঝেও থামেনি মৃত্যু :
সীমান্ত খোলা নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সংঘাত থামেনি। রোববার উত্তর গাজার তুফাহ এলাকা এবং খান ইউনিসে পৃথক হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া গাজা সিটিতে ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।

