দেশের বাজারে কম্পিউটার এক্সেসরিজ বা ইলেকট্রিক পণ্যের বাজার হঠাৎ করে অস্থির হয়ে উঠেছে। এক সপ্তাহে মাউস, কীবোর্ড, র্যাম, প্রসেসর, হেডফোন থেকে শুরু করে মাদারবোর্ড, গ্রাফিক্স কার্ড এবং মনিটর সবকিছুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতা, শিক্ষার্থী এবং ফ্রিল্যান্সাররা বিপাকে পড়েছেন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে গত কয়েক দিনে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যের দাম ১০% থেকে ২৫% পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা দাবি করছেন যে আমদানিকারক পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির কারণে তারা বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই দাম কেন বাড়ছে?
দাম বৃদ্ধির পিছনে ব্যবসায়ী এবং বাজারের অংশীদাররা ৪টি প্রধান কারণকে দায়ী করছেন:
ডলারের মূল্য বৃদ্ধি এবং এলসি জটিলতা: আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে, আমদানিকারকরা এলসি (LC) খোলার জন্য আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয় করছেন। নতুন পণ্য আমদানিতে উচ্চ খরচ সামগ্রিক বাজারকে প্রভাবিত করছে।
শিপিং চার্জ এবং পরিবহন খরচ: আন্তর্জাতিক রুটে কন্টেইনার ভাড়া এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে, যার ফলে জাহাজের ভাড়া বেড়েছে। ফলস্বরূপ, বিদেশ থেকে পণ্য আনার খরচ বা মালবাহী খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে।
বিশ্ববাজারে চিপ সংকট: সেমিকন্ডাক্টর বা চিপের বিশ্বব্যাপী সংকট এখনও সম্পূর্ণরূপে সমাধান হয়নি। উন্নত প্রযুক্তির আনুষাঙ্গিক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় এই উপাদানগুলির ঘাটতি সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি তৈরি করছে।
আমদানি শুল্ক এবং কর: ইলেকট্রনিক পণ্যের শুল্ক কাঠামোর সাম্প্রতিক পরিবর্তনের কারণে আমদানিকৃত পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য বেড়েছে।
বিপাকে সাধারণ ক্রেতারা
রাজধানীর মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার এবং আগারগাঁও আইডিবি ভবনে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, “গত মাসে ১,২০০ টাকায় পাওয়া যেত এমন একটি কীবোর্ড আজ ১,৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। যদি হঠাৎ করে দাম এভাবে বেড়ে যায়, তাহলে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস কেনা অসম্ভব হয়ে পড়বে।”
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে এবং ডলারের বাজার স্বাভাবিক না হলে, অদূর ভবিষ্যতে দাম কমার সম্ভাবনা খুব কম। বরং, আশঙ্কা করা হচ্ছে যে মজুদ শেষ হয়ে গেলে নতুন চালানে দাম আরও বাড়তে পারে।

