আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক সফরকে কেন্দ্র করে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মস্কোর এই পদক্ষেপের কঠোর বিরোধিতা করে আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে টোকিও।
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কুরিলে দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত ‘ইতুরুপ’ (যাকে জাপানে ‘এতোরোফু’ বলা হয়) দ্বীপে সম্প্রতি এক ঝটিকা সফর করেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। সফরকালে তিনি স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন।
পুতিনের এই সফরের পরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই দ্বীপপুঞ্জগুলো জাপানের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই সেখানে রুশ প্রেসিডেন্টের এই সফর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং জাপান সরকার এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।”
প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিমে জাপানের হোক্কাইদো এবং রাশিয়ার কামচাতকা উপদ্বীপের মাঝে অবস্থিত এই কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপপুঞ্জটি নিজেদের দখলে নেয় এবং সেখানে থাকা প্রায় ১৭ হাজার জাপানি নাগরিককে বিতাড়িত করে।
জাপান এই দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলীয় চারটি দ্বীপকে নিজেদের দাবি করে এবং এগুলোকে ‘উত্তর ভূখণ্ড’ (Northern Territories) হিসেবে অভিহিত করে। দীর্ঘ সাত দশক পেরিয়ে গেলেও এই দ্বীপ কেন্দ্রিক আঞ্চলিক বিরোধের কারণেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এখন পর্যন্ত রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারেনি।
রাশিয়ার সামরিক কৌশলের দিক থেকে ইতুরুপ দ্বীপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অঞ্চলটিতে রুশ সামরিক বাহিনীর প্রধান বিমান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এই দ্বীপটি।
সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকায় সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে মস্কো। গত বছরও বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি বৃহৎ আকারের সামরিক মহড়া চালিয়েছিল রাশিয়া, যা নিয়ে টোকিওর সাথে ব্যাপক বাকযুদ্ধ হয়। এছাড়া অতি সম্প্রতি এই দ্বীপপুঞ্জের একটি প্রণালী দিয়ে চীন ও রাশিয়ার যৌথ নৌ-মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা পুরো অঞ্চলে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।

