রক্তঝরা ফাল্গুনের সেই অমর স্মৃতিকে বুকে ধারণ করে আবারও ফিরে এলো একুশে ফেব্রুয়ারি। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্প স্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি। ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার আগেই নিস্তব্ধতার চাদরে ঢাকা পড়ে গোটা এলাকা, যার অবসান ঘটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আগমনে।

প্রথম প্রহরে অমর একুশের কালজয়ী সুর ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের মূর্ছনার মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারের বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষাশহীদদের প্রতি সম্মান জানান।

রাজনীতির মাঠে নতুন মেরুকরণের চিত্র ফুটে ওঠে যখন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে পুষ্প স্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বিদেশের মাটিতে বাংলা ভাষার মর্যাদা ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকগণ। এরপর একে একে নির্বাচন কমিশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শহীদ বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায়।

একুশের এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠান ঘিরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা।
পুরো এলাকা ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে।
নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছে সোয়াট, ডগ স্কোয়াড এবং বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।
সাধারণ নাগরিকদের জন্য পলাশীর মোড় ও জগন্নাথ হল ক্রসিং হয়ে প্রবেশের রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। শাহবাগ, নীলক্ষেত ও হাইকোর্টসহ সাতটি পয়েন্টে ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে সুশৃঙ্খল যাতায়াত নিশ্চিত করতে।
বায়ান্নর সেই রাজপথের লড়াই আজ বিশ্বজুড়ে আত্মপরিচয়ের প্রতীক। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের এই পুষ্পার্ঘ্য কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একুশের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার।

