Friday, May 8, 2026
35.1 C
Bangladesh

রমজানের আগেই অস্থির বাজার: পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও স্বস্তি নেই জনজীবনে

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে এখনো কয়েক দিন বাকি থাকলেও এরই মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নিত্যপণ্যের বাজার। সরকারের পক্ষ থেকে ভোগ্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও আমদানির আশ্বাস দেওয়া হলেও খুচরা বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ইফতারি পণ্য, সবজি এবং আমিষের বাজারে বাড়তি দামের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

রমজানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পণ্যগুলোর দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ছোলার দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খেসারি ডাল মানভেদে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। আমদানি শুল্ক কমানোর ঘোষণা সত্ত্বেও বাজারে এর প্রভাব নেই। মানভেদে সাধারণ খেজুরের দাম কেজিতে ৩০-৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম কোয়ালিটির খেজুর ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে চিনির কেজি ১০০-১০৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারপ্রতি ১৮৫-১৯৫ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। 

ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ লেবু এখন ‘সেঞ্চুরি’ হাঁকিয়েছে। এক হালি বড় লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। এছাড়া বেগুনি তৈরির জন্য লম্বা বেগুনের দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে ৬০-৭০ টাকায় পৌঁছেছে।

মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০-২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম অনেক জায়গায় ৮০০-৮৫০ টাকা পর্যন্ত হাঁকানো হচ্ছে। চাষের রুই, তেলাপিয়া, কাতল মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বিক্রি হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, এবার গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪০% বেশি পণ্য আমদানি করা হয়েছে। আমদানিকারকরা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি নেই। তবে বন্দর কার্যক্রমের সাময়িক ধীরগতি এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাত দিচ্ছেন খুচরা বিক্রেতারা।

বাজার নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারাদেশে টিসিবি (TCB) ট্রাকসেলের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করছে। কার্ডধারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে সয়াবিন তেল, ডাল ও চিনি কিনতে পারবেন।

বাজারে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতি বছরই রমজান আসলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু আশ্বাস নয় বরং কঠোর বাজার মনিটরিং ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে তবেই সংযমের এই মাসে সাধারণ মানুষ কিছুটা শান্তিতে থাকতে পারবে।

নবনির্বাচিত সরকারের যাত্রার শুরুতেই তাই রমজানের বাজার পরিস্থিতি সামাল দেয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এবার বাজার স্থিতিশীল রাখতে নির্বাচনের আগেই গত বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি ভোগ্যপণ্য আমদানি করেছে সরকার।

জনপ্রিয়

More like this
Related

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহঃ) : জীবন ও তৎপরতার সংক্ষিপ্ত রূপ

আরেফিন আল ইমরান সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে একজন মহত্তম ব্যক্তিকে তুলে...

বাজার অস্থিরতা: কম্পিউটার এক্সেসরিজের হঠাৎ করে লাগামহীন দাম কেন? কবে ফিরবে স্বাভাবিক দামে ?

দেশের বাজারে কম্পিউটার এক্সেসরিজ বা ইলেকট্রিক পণ্যের বাজার হঠাৎ...

বিশ্বজুড়ে চিনির বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে,ওষুধি গাছ ‘স্টেভিয়া’

অ্যাস্টার পরিবারের (Asteraceae) ফুলের উদ্ভিদ যা হচ্ছে স্টেভিয়া, (Stevia...