পশ্চিম গোলার্ধের মেক্সিকো থেকে শুরু করে আন্দিজ পর্বতমালা—এক সময়কার আঞ্চলিক এই ফলটি আজ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ‘সুপারফুড’। মাখনের মতো নরম গঠন আর চমৎকার বাদামের স্বাদের জন্য পরিচিত এভোকাডো (Persea americana) কেবল সালাদ বা গুয়াকামোলির উপকরণই নয়, বরং এটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের এক বিস্ময়।
অদ্ভূত প্রজনন রহস্য এভোকাডো গাছের ফুল ফোটার প্রক্রিয়াটি বেশ কৌতুহল উদ্দীপক। গবেষকরা একে ‘ডাইকোগ্যামাস’ (dichogamous) বলেন, অর্থাৎ এর পুরুষ ও স্ত্রী অংশ আলাদা আলাদা সময়ে পরিপক্ক হয়। এভোকাডো ফুল প্রধানত দুই ধরনের হয়:
- টাইপ-এ (Type A): এই ফুলগুলো সকালে স্ত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং পরদিন বিকেলে পুরুষ হিসেবে পুনরায় ফোটে।
- টাইপ-বি (Type B): এগুলো বিকেলে স্ত্রী হিসেবে ফোটে এবং পরদিন সকালে পুরুষ হিসেবে কাজ করে। বাগান মালিকরা সাধারণত এই দুই জাতের গাছ পাশাপাশি লাগান যাতে পরাগায়ন ভালো হয় এবং ফলন বৃদ্ধি পায়।
বিশ্বজুড়ে উৎপাদন ও বৈচিত্র্য মেক্সিকো বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ এভোকাডো উৎপাদনকারী দেশ। ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকোর পাশাপাশি ডোমিনিকান রিপাবলিক, পেরু, ইন্দোনেশিয়া এবং কলম্বিয়া তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
উদ্যানতত্ত্ব অনুযায়ী এভোকাডোকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:
১. মেক্সিকান রেস: এদের পাতা থেকে মৌরির মতো ঘ্রাণ আসে এবং ফলগুলো আকারে ছোট ও পাতলা চামড়ার হয়।
২. গুয়াতেমালান রেস: এদের চামড়া বেশ শক্ত ও কাঠের মতো হয়।
৩. ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান রেস: এটি মূলত ক্রান্তীয় অঞ্চলের উপযোগী জাত।
বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘হাস’ (Hass) এভোকাডো মূলত মেক্সিকান ও গুয়াতেমালান জাতের একটি সংকর বা হাইব্রিড।
পুষ্টির ভাণ্ডার এভোকাডো কেবল সুস্বাদুই নয়, এটি ভিটামিন-এ, থায়ামিন এবং রিবোফ্লাভিনে ভরপুর। জাতভেদে এতে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অসম্পৃক্ত চর্বি বা ভালো মানের তেল থাকে, যা হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সালাদ থেকে শুরু করে মিষ্টি ডেজার্ট—সবখানেই এভোকাডোর রাজত্ব এখন বিশ্বজুড়ে।

