ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চার বছরে পা দিয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে যুদ্ধের ময়দান এবং কূটনৈতিক টেবিল—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দীর্ঘ বিরতির পর রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি উচ্চপর্যায়ের সামরিক সংলাপ শুরু করতে সম্মত হয়েছে, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত।
আলোচনার দ্বিতীয় দিনে উভয় দেশ ১৫৭ জন করে মোট ৩১৪ জন বন্দি বিনিময় করেছে।
ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং ইউক্রেনের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে এখনো উভয় পক্ষ তাদের কঠোর অবস্থানে অনড় রয়েছে।
কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে রণক্ষেত্রে হামলা আরও তীব্র হয়েছে:
তীব্র শীতের (-১৫°C থেকে -২০°C) মধ্যে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকাঠামোতে রাশিয়া ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে কিয়েভ ও খারকিভসহ বড় শহরগুলো বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মতে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৫৫,০০০ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে রাশিয়ার সামরিক ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই যুদ্ধ শুধুমাত্র দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে:
রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় জ্বালানি তেল ও খাদ্যের দাম বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীল রয়েছে।
প্রায় ১ কোটির বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিক বর্তমানে শরণার্থী হিসেবে বিদেশে বা দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।
‘নিউ স্টার্ট’ পারমাণবিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ্বে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২০২৬ সালের শুরুতে শান্তি আলোচনার কিছুটা আভাস পাওয়া গেলেও, ভূখণ্ড দখল এবং কৌশলগত অবস্থানের প্রশ্নে কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। তীব্র শীত ও জ্বালানি সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

