Tuesday, August 11, 2026
26.7 C
Bangladesh

চন্দ্রাভিযান ২০২৬, মহাকাশে বেঁচে থাকার নতুন লড়াই

দীর্ঘ পাঁচ দশক পর চাঁদ আবার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে এবারের ফেরাটা কেবল পদচিহ্ন এঁকে আসার জন্য নয়; বরং সেখানে টিকে থাকা এবং ভবিষ্যতের ‘স্পেস ইকোনমি’ বা মহাকাশ অর্থনীতিতে নিজের জায়গা করে নেওয়ার এক মহাযুদ্ধ। নাসা (NASA), চীন এবং ভারতের এই ত্রিমুখী লড়াই এখন আর কেবল বিজ্ঞানের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই, তা রূপ নিয়েছে ভূ-রাজনীতি ও শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে।

চাঁদে ফেরার পেছনে মূলত তিনটি গভীর ও কৌশলগত কারণ কাজ করছে:

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে জমাটবদ্ধ বরফের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই বরফ থেকে অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন তৈরি করা সম্ভব, যা মহাকাশযান চালানোর জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া চাঁদে প্রচুর পরিমাণে হিলিয়াম-৩ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভবিষ্যতে পৃথিবীতে ক্লিন এনার্জি বা পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি বিপ্লব ঘটাতে পারে। যারা আগে এই সম্পদের দখল নেবে, তারাই আগামী শতকের জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে।

 সরাসরি পৃথিবী থেকে মঙ্গলে যাওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কঠিন। চাঁদকে যদি একটি স্টেশন বা ‘লঞ্চিং প্যাড’ হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তবে মহাকাশ গবেষণা অনেক সহজ হয়ে যাবে। নাসা তাদের আর্টেমিস মিশনের মাধ্যমে চাঁদে একটি স্থায়ী ঘাঁটি বানাতে চায়, যা হবে মানবজাতির গভীর মহাকাশ অভিযানের প্রথম ধাপ।

 মহাকাশে যার নিয়ন্ত্রণ থাকবে, পৃথিবীতে তার প্রভাব হবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। চীন তাদের চ্যাং-ই প্রোগ্রামের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ২০৩০ সালের আগেই চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে, ভারত তাদের চন্দ্রযান-৩ এর অভাবনীয় সাফল্যের পর এখন নিজস্ব স্পেস স্টেশন এবং ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর স্বপ্ন দেখছে। এটি এখন আর কেবল বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে কার প্রযুক্তিগত শক্তি কত বেশি, তা প্রমাণের লড়াই।

পক্ষমূল লক্ষ্যবর্তমান অবস্থা নাসা (USA)আর্টেমিস মিশনের মাধ্যমে প্রথম নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে চাঁদে পাঠানো।আর্টেমিস-২ এবং ৩ মিশনের প্রস্তুতি চলছে; স্পেস-এক্স এর সাথে যৌথ কাজ। চীন (CNSA)২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি (ILRS) স্থাপন।চাঁদের উল্টো পিঠ থেকে নমুনা সংগ্রহে সফল; রাশিয়ার সাথে জোটবদ্ধ। ভারত (ISRO)দক্ষিণ মেরুতে অবতরণের সাফল্য ধরে রেখে নিজস্ব মহাকাশচারী পাঠানো।’গগনযান’ মিশনের প্রস্তুতি এবং ২০৪০ এর রোডম্যাপ চূড়ান্ত।

বিংশ শতাব্দীর ‘স্পেস রেস’ ছিল কেবল ইগোর লড়াই, কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর এই রেস হলো টিকে থাকার এবং সম্পদের মালিকানা অর্জনের। এই প্রতিযোগিতার ফলে সাধারণ মানুষ হয়তো সাশ্রয়ী ইন্টারনেট (স্টারলিংক এর মতো), নতুন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি বা উন্নত প্রযুক্তির সুবিধা পাবে। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, এই লড়াই যদি মহাকাশে যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করে, তবে তা মানবজাতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

চাঁদ এখন আর রাতের আকাশের রূপালি থালা নয়; এটি এখন নতুন এক মহাদেশ, যার দখল নিতে মরিয়া বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো।

জনপ্রিয়

More like this
Related

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহঃ) : জীবন ও তৎপরতার সংক্ষিপ্ত রূপ

আরেফিন আল ইমরান সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে একজন মহত্তম ব্যক্তিকে তুলে...

বাজার অস্থিরতা: কম্পিউটার এক্সেসরিজের হঠাৎ করে লাগামহীন দাম কেন? কবে ফিরবে স্বাভাবিক দামে ?

দেশের বাজারে কম্পিউটার এক্সেসরিজ বা ইলেকট্রিক পণ্যের বাজার হঠাৎ...

বিশ্বজুড়ে চিনির বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে,ওষুধি গাছ ‘স্টেভিয়া’

অ্যাস্টার পরিবারের (Asteraceae) ফুলের উদ্ভিদ যা হচ্ছে স্টেভিয়া, (Stevia...