Tuesday, August 11, 2026
26.7 C
Bangladesh

সংসদে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, জনমত নাকি কেবলই আনুষ্ঠানিকতা?

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের হৃদপিণ্ড হলো তার সংসদ। আর সেই সংসদের প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যে আইন জনগণের জীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, সেই আইন তৈরির প্রক্রিয়ায় খোদ জনগণের অংশগ্রহণ কতটুকু? বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনমতের প্রতিফলন এবং এর সীমাবদ্ধতা নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

আইন তৈরির প্রচলিত ধাপ ও জনসম্পৃক্ততা
বাংলাদেশে সাধারণত একটি বিল সংসদে উত্থাপনের পর তা সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কমিটি চাইলে স্টেকহোল্ডার বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বিলটি ‘জনমত যাচাইয়ের’ জন্য পাঠানোর বিধান থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ অত্যন্ত বিরল।

আজকের প্রেক্ষাপট: যেখানে ঘাটতি রয়ে গেছে
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাস হওয়া বেশ কিছু বিতর্কিত আইনের উদাহরণ টেনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া এখন অনেকটা ‘দ্রুতগতির’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে:
যথাযথ বিতর্কের অভাব: সংসদে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিলের ওপর গঠনমূলক সমালোচনা বা সংশোধনী প্রস্তাবগুলো অনেক সময় গুরুত্ব পায় না।
ওয়েবসাইটে বিলের অস্পষ্টতা: সংসদ সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে বিলের খসড়া জনসম্মুখে আগেভাগে উন্মুক্ত করার প্রথা থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে তা পৌঁছানোর কার্যকর কোনো মাধ্যম নেই।
বিশেষজ্ঞ মতামতের উপেক্ষা: অনেক সময় নাগরিক সমাজ বা সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা আপত্তি জানালেও তা চূড়ান্ত আইনে প্রতিফলিত হয় না।

জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উপায়
আইন প্রণয়নকে আরও অংশগ্রহণমূলক করতে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা:
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার: প্রতিটি বিলের খসড়া ইন্টারনেটে উন্মুক্ত করে সেখানে নাগরিকদের সরাসরি মন্তব্য ও ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

গণশুনানি বাধ্যতামূলক করা: জনগুরুত্বপূর্ণ বা স্পর্শকাতর কোনো আইন তৈরির আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে সরাসরি সংলাপ বা গণশুনানি আয়োজন করা।
স্থায়ী কমিটির স্বচ্ছতা: সংসদীয় কমিটির বৈঠকগুলোতে সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিদের পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকার সুযোগ দেওয়া।
“আইন তৈরি হয় জনগণের মঙ্গলের জন্য। যদি সেই প্রক্রিয়ায় জনমতের প্রতিফলনই না ঘটে, তবে আইনের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। আধুনিক গণতন্ত্রে আইন প্রণয়ন কেবল সংসদ সদস্যদের কাজ নয়, এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া হওয়া উচিত।” — আইন ও নীতি বিশ্লেষক

গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য হলো অংশগ্রহণ। সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের পথ আরও প্রশস্ত করতে হবে। তা না হলে আইন কেবল শাসন করার হাতিয়ার হিসেবেই থেকে যাবে, জনগণের অধিকারের রক্ষাকবচ হয়ে উঠবে না।

জনপ্রিয়

More like this
Related

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহঃ) : জীবন ও তৎপরতার সংক্ষিপ্ত রূপ

আরেফিন আল ইমরান সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে একজন মহত্তম ব্যক্তিকে তুলে...

বাজার অস্থিরতা: কম্পিউটার এক্সেসরিজের হঠাৎ করে লাগামহীন দাম কেন? কবে ফিরবে স্বাভাবিক দামে ?

দেশের বাজারে কম্পিউটার এক্সেসরিজ বা ইলেকট্রিক পণ্যের বাজার হঠাৎ...

বিশ্বজুড়ে চিনির বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে,ওষুধি গাছ ‘স্টেভিয়া’

অ্যাস্টার পরিবারের (Asteraceae) ফুলের উদ্ভিদ যা হচ্ছে স্টেভিয়া, (Stevia...