আজকাল স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের ডায়েট চার্টে একটি নাম বেশ জনপ্রিয়—চিয়া সিড বা চিয়া বীজ। পুদিনা পরিবারের এই উদ্ভিদটি মূলত মেক্সিকো এবং দক্ষিণ-পশ্চিম আমেরিকার বংশোদ্ভূত হলেও বর্তমানে এর জয়জয়কার সারা বিশ্বে। ছোট ডিম্বাকৃতি এই বীজটি দেখতে ধূসর বা কালো-সাদা দাগযুক্ত হলেও এর কার্যকারিতা বিশাল।
অ্যাজটেক থেকে বর্তমান:
ইতিহাসের পাতায় চিয়া প্রাক-কলম্বিয়ান যুগে অ্যাজটেকদের অন্যতম প্রধান খাদ্য ছিল চিয়া বীজ। বর্তমানে বলিভিয়া, আর্জেন্টিনা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে। এই বীজের বিশেষত্ব হলো, এটি নিজের ওজনের চেয়ে প্রায় ১২ গুণ বেশি তরল শোষণ করতে পারে, যা খাবার বা পানীয়কে জেলির মতো ঘন করে তোলে।
পুষ্টির আধার ১০০ গ্রাম শুকনো চিয়া বীজে ১৬% প্রোটিন, ৩১% চর্বি এবং ৪২% কার্বোহাইড্রেট থাকে। এটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি চমৎকার উদ্ভিদ-ভিত্তিক উৎস। এছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং বি-ভিটামিন রয়েছে।
খাবারে চিয়া বীজের ব্যবহার চিয়া বীজ দই, সিরিয়াল, স্মুদি বা পাউরুটিতে মিশিয়ে খাওয়া যায়। নিরামিষাশীদের জন্য ডিমের বিকল্প হিসেবে এটি কেক বা বেকিংয়েও ব্যবহৃত হয়।
সতর্কতা:
বেশি খাওয়া কি ক্ষতিকর? সবকিছুরই যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি কিছু ঝুঁকিও থাকে। অতিরিক্ত চিয়া বীজ খেলে রক্তচাপ কমে যাওয়া, হজমে সমস্যা বা অ্যালার্জি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ চলছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

