সিনেমা এখন আর কেবল রুপালি পর্দার গল্প নয়, এটি পরিণত হয়েছে বিশ্বমঞ্চের এক বিশাল বাণিজ্যিক যুদ্ধে। গত কয়েক দশকে প্রযুক্তির উৎকর্ষতা এবং বিশ্বজুড়ে মাল্টিপ্লেক্সের প্রসারে পাল্টে গেছে বক্স অফিসের সংজ্ঞাও। কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে লড়াই এখন বিলিয়ন ডলারের। ২০২৬ সালের বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমার তালিকায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে হলিউডের ব্লকবাস্টার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।
চলুন দেখে নেওয়া যাক, আয়ের নিরিখে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানো শীর্ষ পাঁচটি সিনেমা:
১. শীর্ষস্থান এখনো ‘অবতার’-এর দখলে
২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া জেমস ক্যামেরনের সায়েন্স ফিকশন মাস্টারপিস ‘অবতার’ এখনো বক্স অফিসের সিংহাসনে অটল। প্যানডোরা গ্রহের কাল্পনিক জগৎ এবং থ্রি-ডি প্রযুক্তির জাদুকরী ব্যবহার দর্শকদের হলমুখী করেছিল। কয়েক দফায় রি-রিলিজসহ সিনেমাটির মোট সংগ্রহ প্রায় ২.৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২. মার্ভেলের রেকর্ডব্রেকার ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’
২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের এই চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে রীতিমতো সুনামি বইয়ে দিয়েছিল। আয়রন ম্যান, থ্যানোস এবং ক্যাপ্টেন আমেরিকার শেষ লড়াই দেখতে মুখিয়ে ছিল সারা বিশ্ব। মুক্তির অল্প দিনেই এটি ২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাব পার করে। বর্তমানে ২.৭৯ বিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে এটি তালিকার দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে।
৩. পানির নিচে ক্যামেরনের জাদু: ‘অবতার ২’
দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২২ সালে মুক্তি পায় ‘অবতার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’। জেমস ক্যামেরন আবারও প্রমাণ করেন যে বড় ক্যানভাসের গল্প বলায় তার জুড়ি নেই। সমুদ্রের তলদেশের বিস্ময়কর দৃশ্যপট দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ২.৩২ বিলিয়ন ডলার আয় করে তালিকার তিনে জায়গা করে নেয়।
৪. অমর প্রেমকাহিনি ‘টাইটানিক’
তালিকায় সবচেয়ে পুরনো সিনেমা হলেও জেমস ক্যামেরনের ‘টাইটানিক’ (১৯৯৭) আজও এক বিস্ময়। জ্যাক ও রোজের বিয়োগান্তক প্রেমের এই গল্পটি কয়েক প্রজন্মকে কাঁদিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে পুনরায় মুক্তি পাওয়ার পর এর বর্তমান আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.২৫ বিলিয়ন ডলারে। শীর্ষ চারের মধ্যে তিনটি সিনেমাই এককভাবে জেমস ক্যামেরনের পরিচালনা করা, যা এক বিরল রেকর্ড।
৫. গ্লোবাল চমক হিসেবে ‘নে ঝা ২’
সম্প্রতি বক্স অফিসের হিসাবে বড় পরিবর্তন এনেছে ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া চিনা অ্যানিমেশন সিনেমা ‘নে ঝা ২’। হলিউডকে টেক্কা দিয়ে এশিয়ার এই সিনেমাটি প্রায় ২.২১ বিলিয়ন ডলার আয় করে শীর্ষ পাঁচে ঢুকে পড়েছে। এটি বিশ্ব চলচ্চিত্রের বাজারে চিনা সিনেমার ক্রমবর্ধমান শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিনেমা বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা বাড়লেও বড় পর্দার অভিজ্ঞতার আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। ২০২৬ সালের শেষে আসন্ন ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ এবং ‘অবতার’-এর পরবর্তী কিস্তিগুলো এই রেকর্ড আবারও ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়তে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

