প্রতি বছর ১লা ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে ‘ন্যাশনাল ফ্রিডম ডে’ বা জাতীয় স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। এটি কোনো সাধারণ উৎসব নয়, বরং মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক বড় বিজয়ের স্মারক। ১৮৬৫ সালের এই দিনে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন মার্কিন সংবিধানের ১৩তম সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেছিলেন, যার মাধ্যমে দেশটিতে দাসপ্রথার অবসান ঘটে।
১৮৬৫ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি লিংকন যখন এই যৌথ প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন, তখন সেটি ছিল একটি অন্ধকার অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন এক ভোরের সূচনা। যদিও এটি পরবর্তীতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য কর্তৃক অনুমোদিত (ratified) হয়েছিল, কিন্তু এই তারিখটিকেই মুক্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
এই দিবসটি উদযাপনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল মেজর রিচার্ড রবার্ট রাইট সিনিয়রের। তিনি নিজে একজন ক্রীতদাস হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং গৃহযুদ্ধের পর মুক্তি লাভ করেন। তিনি চেয়েছিলেন এমন একটি দিন থাকুক, যা সমস্ত আমেরিকানদের জন্য স্বাধীনতার বারতা বয়ে আনবে। ১৯৪৭ সালে তাঁর মৃত্যুর এক বছর পর, ১৯৪৮ সালে প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ১লা ফেব্রুয়ারিকে ‘ন্যাশনাল ফ্রিডম ডে’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিলে স্বাক্ষর করেন।
যদিও এটি সাধারণ ছুটির দিন নয়, তবুও ফিলাডেলফিয়ার লিবার্টি বেলে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়। এটি মূলত ‘ব্ল্যাক হিস্ট্রি মান্থ’ বা কৃষ্ণবর্ণের মানুষের ইতিহাস বিষয়ক মাসের একটি ভূমিকা হিসেবে কাজ করে। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা কেবল একটি শব্দ নয়, বরং এটি অনেক ত্যাগ ও সংগ্রামের ফসল।

