মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই সভ্যতার সমান পুরোনো। একসময় যে রোগকে মনে করা হতো ‘দেবতার অভিশাপ’ বা ‘অপশক্তির প্রভাব’, আজ সেই রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জিন এডিটিং। আদিম গুহাবাসী মানুষের টোটকা থেকে আধুনিক ল্যাবরেটরির ডিএনএ রহস্য উন্মোচন—চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই বিবর্তন মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায়।
প্রাচীন বিশ্বাস ও হিপোক্রেটিসের বিপ্লব চিকিৎসা শাস্ত্রের আদি রূপের সন্ধান মেলে নীল নদের তীরে। খ্রিস্টপূর্ব ১৫৫০ অব্দের প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে ভেষজ ওষুধের পাশাপাশি মন্ত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে আধুনিক চিকিৎসার মোড় ঘুরিয়ে দেন গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস। তিনিই প্রথম রোগকে অন্ধবিশ্বাস থেকে আলাদা করে বিজ্ঞানের আলোয় আনেন। তাঁর প্রবর্তিত ‘হিপোক্রেটিক ওথ’ আজও বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকদের নৈতিকতার মানদণ্ড। পরবর্তীতে রোমানরা সুপেয় পানি ও উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের ধারণায় বিপ্লব ঘটায়।
অণুবীক্ষণ যন্ত্র ও জীবাণু তত্ত্বের জয়জয়কার মধ্যযুগের অন্ধকার পেরিয়ে রেনেসাঁ যুগে যখন অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কৃত হলো, তখন মানুষের সামনে খুলে গেল এক অদৃশ্য জগত। লুই পাস্তুর ও রবার্ট কখ প্রমাণ করলেন, রোগ কোনো অভিশাপ নয় বরং জীবাণুর কারসাজি। ১৮৪৬ সালে অ্যানেস্থেশিয়ার উদ্ভাবন সার্জারিকে যন্ত্রণামুক্ত করে, আর ১৯২৮ সালে ফ্লেমিংয়ের পেনিসিলিন আবিষ্কার চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘অ্যান্টিবায়োটিক বিপ্লব’ নিয়ে আসে।
ডিএনএ রহস্য ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ বিংশ শতাব্দীতে ওয়াটসন ও ক্রিকের ডিএনএ গঠন আবিষ্কার চিকিৎসাবিজ্ঞানকে আণবিক পর্যায়ে নিয়ে যায়। আজকের দিনে সিটি স্ক্যান বা এমআরআই প্রযুক্তির কল্যাণে দেহ না কেটেই রোগ নির্ণয় সম্ভব হচ্ছে। তবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও ক্লোনিংয়ের মতো প্রযুক্তি বিজ্ঞানীদের সামনে যেমন অপার সম্ভাবনা খুলে দিয়েছে, তেমনি দাঁড় করিয়েছে কঠিন নৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে।

