রান্নাঘরের ঝুড়িতে থাকা সাধারণ লাল রঙের বিটরুট আসলে কতটা শক্তিশালী তা আমরা অনেকেই জানি না। উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় এটি Beta vulgaris নামে পরিচিত। এই সবজিটি শুধু তার মূলের জন্যই নয়, বরং এর পাতা থেকে শুরু করে প্রতিটি অংশের বহুমুখী ব্যবহারের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ।
উদ্ভিদতাত্ত্বিক পরিচয় খাদ্যতালিকায় আমরা মূলজাতীয় সবজিকে একভাবে দেখলেও, বিটরুট একটি “প্রকৃত মূল” বা True Root । এটি আলু (টিউবার) বা আদার (রাইজোম) মতো নয়; বরং গাজর বা শালগমের মতো মাটির নিচে বাড়তে থাকে । এটি সাধারণত দুই বছরজীবী উদ্ভিদ হলেও এর রসালো মূলের জন্য প্রথম মৌসুমেই এটি সংগ্রহ করা হয়।
মূল থেকে পাতা,সবটাই পুষ্টিগুণে ঠাসা বিটরুটের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এর প্রতিটি অংশই খুবই গুরুত্বপূর্ণ । আমরা সাধারণত এর মূল অংশটি সেদ্ধ করে, রোস্ট করে কিংবা আচার হিসেবে খেয়ে থাকি । কিন্তু এর সবুজ পাতাও অত্যন্ত পুষ্টিকর:
বিটরুট মূল: এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফলেট, ম্যাঙ্গানিজ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিটেইন থাকে।
বিটরুট পাতা: এই পাতাগুলো আয়রন, রাইবোফ্লাভিন এবং ভিটামিন এ, সি ও কে-এর চমৎকার উৎস। কচি পাতাগুলো পালং শাকের মতো রান্না করে খাওয়া যায় ।
চাষাবাদ ও বৈশিষ্ট্য বিটরুট সাধারণত শীতল বা নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে ৮ থেকে ১০ সপ্তাহে ভালো জন্মে । গভীর ও ঝুরঝুরে মাটি এদের বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে উপযোগী । যদিও আমরা রক্তবর্ণের বিটরুট দেখতে অভ্যস্ত, কিন্তু প্রকৃতিতে সাদা বা কমলা রঙের বিটও পাওয়া যায়। চাষের সময় মনে রাখতে হবে, মাটিতে বোরনের অভাব হলে এই সবজির ভেতরে কালো দাগ বা ক্ষত তৈরি হতে পারে ।
স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে বিটরুট আজ এক সুপারফুড। সালাদ, জুস কিংবা তরকারি-যেকোনো ভাবেই এই সবজি আপনার ডায়েটে যোগ করতে পারে বাড়তি পুষ্টি ।
পুষ্টির আঁধার, মাটির নিচের এক বিস্ময়কর সবজি বিটরুট!

