বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রচলিত পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কেবল একে অপরকে দায়ী করে নয়, বরং বাস্তবমুখী পরিকল্পনা এবং তরুণ সমাজের পরামর্শকে প্রাধান্য দিয়েই আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হবে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি কথা বলেন তরুণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে।
তরুণদের ভাবনা ও শিক্ষা পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ও এর আশেপাশের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে চারশ শিক্ষার্থী অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারেক রহমান জানান, বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থীই অর্থের অভাবে পড়েন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের জন্য ‘স্টুডেন্ট লোন’ বা শিক্ষা ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, “জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে।”
শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় স্কুলগুলোকে অডিও-ভিজ্যুয়াল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। এর ফলে দেশের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষার্থীরা সেরা শিক্ষকদের ক্লাস করার সুযোগ পাবে। এছাড়া শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে আধুনিক ডিভাইস ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।
কারিগরি শিক্ষা ও কর্মসংস্থান
বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর জোর দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে বিশ্বে কোন ধরনের কারিগরি বা ভোকেশনাল কাজের চাহিদা বাড়বে, তা গবেষণা করে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী তৈরি করে বিদেশে রপ্তানির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়ন
পরিবেশ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে তারেক রহমান একটি মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশজুড়ে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর ফলে বৃষ্টির পানি জমার সমস্যা যেমন কমবে, তেমনি ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও পুনরায় পূর্ণ হবে।
দুর্নীতি ও স্বাস্থ্যখাত
উন্নয়ন টেকসই করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “সরকার যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে, তবে চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অপরাধ সমাজ থেকে দূর করা সম্ভব।” স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু বড় বড় হাসপাতাল নির্মাণই সমাধান নয়, বরং ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রাথমিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।
দিনভর জনসভার কর্মসূচি
তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তারেক রহমান একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলো গ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি ফেনী পাইলট স্কুল মাঠ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও দাউদকান্দি এবং সবশেষে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে সর্বশেষ দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে চট্টগ্রাম সফরে এসেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ বিরতির পর এবার দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি বন্দরনগরীতে জনসমাবেশে যোগ দিচ্ছেন।

