আলোচনার মাধ্যমে পরমাণু সমস্যার সমাধান হলে, সেটাই হবে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ সমাধান। আলোচনাকে সামনে রেখে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা একটি টেবিলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিলেন এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা। তিনি জানালেন, সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও এই ‘হাইভোল্টেজ’ আলোচনায় তিনি পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকবেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির জেনেভা সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে ‘কঠিন প্রতিপক্ষ’ হিসেবে অভিহিত করলেও আলোচনার ফলাফল নিয়ে বেশ আশাবাদী। তাঁর মতে, গত জুন মাসের সংঘাত থেকে ইরান শিক্ষা নিয়েছে। সে সময় ইসরায়েল-ইরান ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নিয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল। ট্রাম্প মনে করেন, চুক্তি না হওয়ার ভয়াবহ পরিণতি ইরান আর ভোগ করতে চাইবে না, তাই এবারের আলোচনায় তেহরান নমনীয় হতে পারে।
আলোচনার টেবিলে বসলেও দুই পক্ষের দাবি যেন দুই মেরুতে অবস্থান করছে। এটিই এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় বাধা: ইরানের মাটিতে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা যাবে না। পাশাপাশি, আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের বিষয়টিও চুক্তির আওতায় আনতে হবে।
তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ‘শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ’ নীতি তারা মানবে না এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনাই হবে না। তাদের দাবি একটাই—নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেই কেবল তারা কর্মসূচি সীমিত করার কথা ভাববে।
জেনেভায় যখন শান্তির খোঁজে আলোচনা চলছে, তখন উপসাগরীয় অঞ্চলে বাজছে যুদ্ধের দামামা। যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে তাদের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে শক্তি প্রদর্শন করছে। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন—ইরানে কোনো হামলা হলে তা কেবল ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ছড়িয়ে পড়বে পুরো অঞ্চলে, শুরু হবে এক আঞ্চলিক যুদ্ধ। কূটনীতির এই জটিল দাবার চালে শেষ পর্যন্ত কে জেতে—ট্রাম্পের চাপ, নাকি ইরানের অনড় অবস্থান—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

