Wednesday, July 29, 2026
26.5 C
Bangladesh

অ্যাভাটার মানেই খরচের পাহাড়,কেমন চলছে অ্যাভাটার ৩ ?

সিনেমার ইতিহাসে জেমস ক্যামেরন এমন একজন পরিচালক যিনি প্রতিবারই প্রযুক্তির সীমা ছাড়িয়ে যান। ‘অ্যাভাটার ১’ ছিল জঙ্গল আর প্রকৃতির গল্প, ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’ ছিল সমুদ্রের তলদেশের রোমাঞ্চ। আর ২০২৫ সালের ১৯শে ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া তৃতীয় কিস্তি আমাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে প্যান্ডোরার এক রুক্ষ ও ভয়ংকর রূপের সাথে।

সুদীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেয়েছে ‘অ্যাভাটার ৩’ বা ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’। বাংলাদেশেও রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সসহ প্রধান সিনেমা হলগুলোতে এটি একই দিনে মুক্তি পায়। বর্তমানে ২০২৬ সালের শুরুতেও সিনেমাটি আইম্যাক্স (IMAX) এবং থ্রিডি স্ক্রিনগুলোতে দাপট দেখাচ্ছে।

‘অ্যাভাটার’ মানেই পানির মতো টাকা খরচ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ছবির নির্মাণ ব্যয় বা প্রোডাকশন বাজেট প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকারও বেশি। এর সাথে বিপণন ও প্রচারণার জন্য ব্যয় হয়েছে আরও প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার। এই বিশাল বাজেটের বড় অংশই ব্যয় হয়েছে ক্যামেরনের আবিষ্কৃত নতুন সব ক্যামেরা প্রযুক্তি এবং ভিএফএক্স (VFX) এর পেছনে।

পুরানো সব প্রিয় মুখ তো আছেই, সাথে যুক্ত হয়েছে কিছু রহস্যময় নতুন চরিত্র:
স্যাম ওয়ার্থিংটন (জেক সালি): পরিবারের রক্ষাকর্তা হিসেবে ফিরে এসেছেন।
জো স্যালডানা (নেইতিরি): বরাবরের মতোই তেজস্বী লুকে।
সিগর্নি উইভার (কিরি): প্যান্ডোরার সাথে আধ্যাত্মিক সংযোগের মূল চাবিকাঠি।
স্টিভেন ল্যাং (কোয়ারিচ): খলনায়ক হিসেবে তার প্রত্যাবর্তন এবার আরও ভয়ংকর।
কেট উইন্সলেট (রোনাল): সমুদ্রের না’ভি নেতা হিসেবে এবারও তিনি গুরুত্বপূর্ণ।
উনা চ্যাপলিন (ভারাং): এবারের সবথেকে বড় আকর্ষণ। তিনি আগুনের না’ভি বা ‘অ্যাশ পিপল’-এর নেত্রী।
এবারের গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু ‘অ্যাশ পিপল’ (Ash People) বা ছাইয়ের জাতি। প্যান্ডোরার এই না’ভি গোষ্ঠী আগের মতো শান্ত বা প্রকৃতিপ্রেমী নয়। তারা আগ্নেয়গিরি সমৃদ্ধ অঞ্চলে বাস করে এবং তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণাত্মক। জেমস ক্যামেরন এবার দেখিয়েছেন যে, সব না’ভি ভালো হয় না; তাদের মধ্যেও দাঙ্গা এবং রাজনৈতিক জটিলতা রয়েছে। জেক সালি এবং তার পরিবারকে এবার শুধু মানুষের সাথেই নয়, বরং নিজেদের স্বজাতির এক অন্ধকার শক্তির মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

জেমস ক্যামেরন এই ছবির জন্য এমন কিছু ক্যামেরা ব্যবহার করেছেন যা আগে কখনও সিনেমায় দেখা যায়নি। সিনেমাটি মূলত আইম্যাক্স এক্সপেরিয়েন্সের কথা মাথায় রেখেই বানানো হয়েছে।

ভলক্যানিক মোশন ক্যাপচার: আগুনের শিখা এবং লাভার মধ্যে না’ভিদের নড়াচড়া ফুটিয়ে তুলতে বিশেষ সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে।

এবার কাহিনির ধারাভাষ্য বা ন্যারেশন দিচ্ছেন জেক সালি নয়, বরং তার ছোট ছেলে লো’আক (Lo’ak)। এটি দর্শকদের এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিচ্ছে।

দৈর্ঘ্য: সিনেমাটির রান-টাইম প্রায় ৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিট, যা দর্শককে প্যান্ডোরার জগতে পুরোপুরি নিমজ্জিত করে রাখে।

মুক্তি পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ১.৪৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। যদিও এটি আগের দুটি ছবির রেকর্ড এখনও ভাঙতে পারেনি, তবুও এটি ২০২৫ সালের সবথেকে সফল সিনেমাগুলোর একটি।

জেমস ক্যামেরনের পরের মুভি গুলো কবে নাগাদ আসতে পারে
অ্যাভাটার ৪: মুক্তির সম্ভাব্য তারিখ ডিসেম্বর ২০২৯।
অ্যাভাটার ৫: মুক্তির সম্ভাব্য তারিখ ডিসেম্বর ২০৩১।
ক্যামেরন জানিয়েছেন, চতুর্থ কিস্তিতে সময়ের এক বড় ব্যবধান (Time Leap) দেখা যাবে, যেখানে আমরা সালি পরিবারের সন্তানদের বড় হয়ে উঠতে দেখব।

‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি একটি অনুভূতি। প্যান্ডোরার সৌন্দর্য থেকে শুরু করে যুদ্ধের বিভীষিকা—সবই এতে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যারা এখনও বড় পর্দায় এটি দেখেননি, তাদের জন্য এটি জীবনের সেরা সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা হতে পারে।

জনপ্রিয়

More like this
Related

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহঃ) : জীবন ও তৎপরতার সংক্ষিপ্ত রূপ

আরেফিন আল ইমরান সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে একজন মহত্তম ব্যক্তিকে তুলে...

বাজার অস্থিরতা: কম্পিউটার এক্সেসরিজের হঠাৎ করে লাগামহীন দাম কেন? কবে ফিরবে স্বাভাবিক দামে ?

দেশের বাজারে কম্পিউটার এক্সেসরিজ বা ইলেকট্রিক পণ্যের বাজার হঠাৎ...

বিশ্বজুড়ে চিনির বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে,ওষুধি গাছ ‘স্টেভিয়া’

অ্যাস্টার পরিবারের (Asteraceae) ফুলের উদ্ভিদ যা হচ্ছে স্টেভিয়া, (Stevia...