আজ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; বাংলাদেশের ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন। দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সাথে বহুল আলোচিত জাতীয় গণভোট। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন, যেখানে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আজ সকাল ৭:৩০ থেকে দেশজুড়ে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই দেশের প্রথম নির্বাচন, যা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হচ্ছে (শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত)। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি, জামায়াত ইসলামি জাতীয় নাগরিক দল (NCP) জোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থীদের মধ্যে।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের দুটি ব্যালট পেপার দেওয়া হচ্ছে। সাদা ব্যালট: সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য। গোলাপী ব্যালট: সংবিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট (জাতীয় গণভোট)।
নির্বাচন কমিশন (EC) জানিয়েছে, ভোটদান সুষ্ঠু রাখতে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য (পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব এবং বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন রয়েছে। প্রায় ৫ লাখের বেশি আনসার সদস্য এবং হাজার হাজার নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু জায়গায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেকোনো সময়ের চেয়ে স্থিতিশীল রয়েছে।
দেশি পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবারই প্রথম অনেক কেন্দ্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং পোস্টাল ব্যালটের সমন্বয় করা হয়েছে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আজ বিকেল থেকেই গণনা শুরু হবে। তবে যেহেতু একই সাথে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট গণনা করতে হবে, তাই পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে আগামীকাল (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

