পাকিস্তান ক্রিকেট মানেই কি চরম অনিশ্চয়তা? কলম্বোর ২২ গজে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আরও একবার সেই প্রশ্নেরই উত্তর মিলল। সহজ ম্যাচকে কঠিন করে, তারপর খাদের কিনারা থেকে ফিরে এসে জেতাটা যেন তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারের মুখ থেকে ৩ উইকেটের যে জয়টি পাকিস্তান পেল, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য!
১৪৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জয়ের পথেই ছিল পাকিস্তান। সমীকরণটা ছিল একেবারেই সাদামাটা—শেষ ৯ ওভারে প্রয়োজন ৫০ রান, হাতে অক্ষত ৮ উইকেট। ক্রিজে সেট হয়ে গিয়েছিলেন বাবর আজম ও সাহিবজাদা ফারহান। কিন্তু এরপরই মঞ্চস্থ হলো সেই চিরচেনা পাকিস্তানি ব্যাটিং ধস!
স্কোরবোর্ড যখন ২ উইকেটে ৯৮, সেখান থেকে চোখের পলকে তা হয়ে গেল ৭ উইকেটে ১১৪। মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে ৫ জন ব্যাটারকে হারিয়ে কলম্বোর গ্যালারিতে তখন শুধুই পিনপতন নীরবতা। নেদারল্যান্ডস তখন স্পষ্ট জয়ের সুবাস পাচ্ছিল।
শেষ ১২ বলে (২ ওভার) জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২৯ রান। হাতে মাত্র ৩ উইকেট। ক্রিজে ফাহিম আশরাফ আর শাহিন শাহ আফ্রিদি। ১৯তম ওভারে লোগান ফন বিকের দ্বিতীয় বলে ফাহিমের ক্যাচটি যদি ডাচ ফিল্ডার ম্যাক্স ও’ডাউড তালুবন্দি করতে পারতেন, তবে হয়তো ভিন্ন ইতিহাস লেখা হতো।
ফাহিমের রুদ্রমূর্তি
জীবন পেয়েই যেন ফাহিম আশরাফ নিজের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন। ওই ১৯তম ওভারেই ফন বিকের ওপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দিলেন—হাঁকালেন ৩টি বিশাল ছক্কা ও একটি চার। এক ওভারে ২৪ রান তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে আসেন তিনি।
শেষ ওভারে দরকার ছিল মাত্র ৫ রান, যা ৩ বলেই তুলে নেয় পাকিস্তান। ফাহিমের বীরত্বে ভক্তদের সব আশঙ্কা দূর হলেও, বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন রুদ্ধশ্বাস জয় বলে দিচ্ছে—পাকিস্তান আছে পাকিস্তানেই!

