স্কোরবোর্ডে ৪-১ ব্যবধান দেখে মনে হতে পারে ম্যাচটা ছিল নিতান্তই একপেশে। কিন্তু বুধবার রাতের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ঘরের মাঠে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে হারের শঙ্কা জাগিয়েছিল বার্সেলোনা। সেখান থেকে তরুণ বিস্ময় ল্যামিন ইয়ামালের জাদুকরী পারফরম্যান্সে ঘুরে দাঁড়িয়ে দাপুটে জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে হান্সি ফ্লিকের দল।
মিনিট চারেকের স্তব্ধতা ও প্রথমার্ধের হতাশা
ম্যাচের বাঁশি বাজার মাত্র চার মিনিটের মাথায় ক্যাম্প ন্যুর গ্যালারিতে পিনপতন নীরবতা। বার্সার রক্ষণভাগের ‘হাই লাইন’ ফাঁদ ভেঙে মোহামেদ এলিয়ানুসির বাড়ানো বল ধরে ঠান্ডা মাথায় স্বাগতিকদের জালে বল জড়ান ১৭ বছর বয়সী ভিক্টর ডাডাসন। গোল হজম করে বার্সা বল পজিশনে একচ্ছত্র আধিপত্য (৭৫%) দেখালেও প্রথমার্ধে সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হয়। রবার্ট লেভানডোভস্কির অবিশ্বাস্য মিস আর এরিক গার্সিয়ার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে হতাশা নিয়েই বিরতিতে যায় কাতালানরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ইয়ামাল-শো
বিরতি থেকে ফিরেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে বার্সা, যার নেপথ্য কারিগর লামিন ইয়ামাল। দানি ওলমোর থ্রু পাস ধরে নিজে শট নেওয়ার লোভ সামলে তিনি আলতো ছোঁয়ায় বল বাড়িয়ে দেন লেভানডোভস্কির দিকে। পোলিশ তারকা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের ১০৬তম গোলটি করে দলকে ম্যাচে ফেরান।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় এর পরেই। বক্সের বাইরে থেকে ইয়ামালের নেওয়া শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে এগিয়ে যায় বার্সা। কিছুক্ষণ পর আবারও ইয়ামালের ক্রস রিসিভ করতে গিয়ে বক্সে ফাউলের শিকার হন লেভা। স্পট কিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনহা।
র্যাশফোর্ডের গোল ও পরবর্তী মিশন
ম্যাচের শেষ পেরেকটি ঠোকেন বদলি হিসেবে নামা মার্কাস র্যাশফোর্ড। গোলকিপারকে বোকা বানিয়ে ফ্রি-কিক থেকে বুদ্ধিদীপ্ত এক গোল করেন তিনি। শেষদিকে কোপেনহেগেন একটি গোল শোধ দিলেও অফসাইডের ফাঁদে তা বাতিল হয়।
এই জয়ের ফলে লিগ পর্বে পঞ্চম স্থানে থেকে বেশ রাজকীয়ভাবেই নকআউট পর্বে পা রাখল বার্সেলোনা। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে পিএসজি কিংবা নিউক্যাসলের মতো কঠিন দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

