যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে আঘাত হেনেছে এক প্রলয়ঙ্করী শীতকালীন ঝড়। এর প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশটির স্বাভাবিক জনজীবন। একদিকে যেমন হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকারে ডুবে গেছে লাখো মানুষ।
মার্কিন আবহাওয়া দপ্তরের (NWS) পূর্বাভাস অনুযায়ী, রকি মাউন্টেন থেকে শুরু করে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল এলাকায় প্রায় ১৮ কোটি মানুষ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। প্রবল তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি এবং হাড়কাঁপানো ঠান্ডার আশঙ্কায় শনিবার রাতেই নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১২টি রাজ্যে জরুরি অবস্থা ও প্রেসিডেন্টের বার্তা :
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঝড়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় সাউথ ক্যারোলিনা, ভার্জিনিয়া, টেনেসি এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসহ মোট ১২টি রাজ্যে ফেডারেল জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, “আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছি। আপনারা নিরাপদে থাকুন এবং উষ্ণ থাকার চেষ্টা করুন।”
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) জানিয়েছে, ১৭টি রাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অফ কলম্বিয়ায় বিশেষ আবহাওয়া সতর্কতা কার্যকর রয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে দ্রুত সংযোগ ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএইচএস সচিব ক্রিস্টি নোয়েম। তিনি নাগরিকদের পর্যাপ্ত খাবার ও জ্বালানি মজুদ রাখার আহ্বান জানান।
বিপর্যস্ত আকাশপথ :
খারাপ আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের বিপর্যয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্যমতে, শনিবার ৪ হাজারের বেশি এবং রোববারের জন্য নির্ধারিত আরও ৯ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এভিয়েশন বিশ্লেষক সংস্থা সিরিয়াম জানাচ্ছে, করোনা মহামারির পর একদিনে এত বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা এই প্রথম। ডেল্টা এয়ারলাইন্স এবং জেটব্লুসহ বড় বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের ভ্রমণের আগে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে আটলান্টা, বোস্টন ও নিউইয়র্কের মতো প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও তাপমাত্রার পতন :
PowerOutage.com-এর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, টেক্সাস ও লুইজিয়ানাসহ বিভিন্ন রাজ্যে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। টেক্সাসের ডালাসে তাপমাত্রা মাইনাস ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে। হিউস্টনের মেয়র জন হুইটমায়ার বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আগামী ৭২ ঘণ্টা যেন সবাই নিজ ঘরেই অবস্থান করেন।
সূত্র : আল জাজিরা

