আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতি আরও এক ধাপ উসকে দিয়ে ইরানের লারাক দ্বীপে সামরিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত জুলাই মাসের পর ইরানি ভূখণ্ডে এটিই প্রথম কোনো প্রকাশ্যে মার্কিন আক্রমণের ঘটনা।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেনটকম)-এর মুখপাত্র কমান্ডার টিম হকিন্স জানিয়েছেন, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলয় থেকে হরমুজ প্রণালীতে সমুদ্র-মাইন বহনে সক্ষম রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সে সময় মার্কিন বাহিনী সেখানে থাকা দুটি লঞ্চার ধ্বংস করে দেয়। উল্লেখ্য, স্ট্রেইট অব হরমুজ বা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ।ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের তথ্যমতে, ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই আইআরজিসি-র মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এটিকে মার্কিন প্রশাসনের এক “মারাত্মক কৌশলগত ভুল” বলে আখ্যা দিয়েছেন। এর পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক ও সামরিক—উভয় ক্ষেত্রেই ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন ড্রোন হামলার জবাবে কিছুক্ষণ পরই জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘কিং হোসেন’ ও ‘আল-আজরাক’-কে লক্ষ্য করে একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে আইআরজিসি। ইরানের দাবি, এ হামলায় মার্কিন কাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে জর্ডান সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানান, দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রই তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে।গত ২৪ আগস্ট ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদারের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। এর মাত্র কয়েকদিনের মাথায় সরাসরি এই সামরিক আঘাত এলো। গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে শুরু হওয়া ছায়াযুদ্ধ এবং সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইরানের লাারক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা,হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা তুঙ্গে, জর্ডানে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ

