Friday, August 28, 2026
28.7 C
Bangladesh

আকার যত বড়, চার্জ হবে তত দ্রুত।ব্যাটারির প্রচলিত নিয়ম ভাঙছে ‘কোয়ান্টাম ব্যাটারি’

আমরা জানি ব্যাটারির আকার যত বড় হয়, সেটি চার্জ হতে তত বেশি সময় লাগে। একটি স্মার্টফোনের চেয়ে ল্যাপটপ বা বৈদ্যুতিক গাড়ি ফুল চার্জ হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগার পেছনের কারণও এটাই। কিন্তু কোয়ান্টাম মেকানিক্সের জগতে চিরচেনা এই নিয়মটি পুরোপুরি উল্টে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এমন এক ‘কোয়ান্টাম ব্যাটারি’র প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন, যার আকার যত বড় হবে, এর চার্জিংয়ের গতিও তত বাড়বে!

কোয়ান্টাম ব্যাটারি
কোয়ান্টাম ব্যাটারি

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থার (CSIRO) গবেষক জেমস কোয়াচ এবং তাঁর দল ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এই প্রযুক্তিতে এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন। তাঁরা বিশ্বের প্রথম কার্যকর কোয়ান্টাম ব্যাটারির প্রোটোটাইপ থেকে বৈদ্যুতিক প্রবাহ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রচলিত ব্যাটারি যেখানে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করে, সেখানে কোয়ান্টাম ব্যাটারি কাজ করে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নিয়মে। সুপারঅ্যাবজর্পশন (Superabsorption) নামক এক বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর অণুগুলো আলাদাভাবে শক্তি শোষণ করার বদলে জোটবদ্ধভাবে কাজ করে।জেমস কোয়াচ জানান, দুটি অতি-ক্ষুদ্র আয়নার (মানুষের চুলের চেয়েও হাজার গুণ পাতলা) মাঝে অর্গানিক ডাই অণু রেখে তাতে লেজার রশ্মি ফেললে আলোর সাথে অণুর এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বা হাইব্রিড অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর ফলে অণুর সংখ্যা যত বাড়ে, শক্তি শোষণের হার বা চার্জিংয়ের গতিও তত বহুগুণ বেড়ে যায়। তাঁর তৈরি প্রোটোটাইপটি মাত্র কয়েক ফেমটোসেকেন্ডের (এক সেকেন্ডের এক কোয়াড্রিলিয়ন ভাগের এক ভাগ) মধ্যে চার্জ হতে পারে! সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি সাধারণ কক্ষতাপমাত্রাতেই কাজ করে।

তবে সাধারণ মানুষের হাতে এই ব্যাটারি পৌঁছাতে এখনও বেশ কিছু বড় বাধা পেরোতে হবে। ইতালির জেনোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার সহযোগী অধ্যাপক দারিও ফেরারো মনে করেন, কোয়ান্টাম ব্যাটারির মূল উদ্দেশ্য বিপুল শক্তি সঞ্চয় করা নয়, বরং দ্রুততম সময়ে ও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে শক্তি সরবরাহ করা। বর্তমানে কোয়াচের এই প্রোটোটাইপটি ন্যানোসেকেন্ডের মতো অতি-স্বল্প সময়ের জন্য শক্তি ধরে রাখতে পারে। তাছাড়া কোয়ান্টাম অবস্থা অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় পরিবেশের সামান্য পরিবর্তনে এর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিজ্ঞানীরা হাল ছাড়তে রাজি নন। জেমস কোয়াচ বর্তমানে এমন একটি ‘হাইব্রিড কাঠামো’ নিয়ে কাজ করছেন, যেখানে কোয়ান্টাম প্রযুক্তির সাহায্যে অতি-দ্রুত চার্জ হবে এবং সাধারণ (ক্লাসিক্যাল) লেয়ার ব্যবহার করে দীর্ঘক্ষণ সেই শক্তি ধরে রাখা যাবে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কোয়ান্টাম কম্পিউটারগুলোতে এই ব্যাটারির সফল প্রয়োগ ঘটবে বলে তিনি আশাবাদী। এমনকি চলন্ত বৈদ্যুতিক গাড়িকে সরাসরি লেজার রশ্মি দিয়ে চার্জ করার মতো বৈপ্লবিক ধারণার কথাও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। যদিও বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, মোবাইল বা গাড়ির মতো দৈনন্দিন ডিভাইসের বদলে কোয়ান্টাম প্রযুক্তির জগতেই এই ব্যাটারির আসল রাজত্ব গড়ে উঠবে।

জনপ্রিয়

More like this
Related

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহঃ) : জীবন ও তৎপরতার সংক্ষিপ্ত রূপ

আরেফিন আল ইমরান সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে একজন মহত্তম ব্যক্তিকে তুলে...

বাজার অস্থিরতা: কম্পিউটার এক্সেসরিজের হঠাৎ করে লাগামহীন দাম কেন? কবে ফিরবে স্বাভাবিক দামে ?

দেশের বাজারে কম্পিউটার এক্সেসরিজ বা ইলেকট্রিক পণ্যের বাজার হঠাৎ...

বিশ্বজুড়ে চিনির বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে,ওষুধি গাছ ‘স্টেভিয়া’

অ্যাস্টার পরিবারের (Asteraceae) ফুলের উদ্ভিদ যা হচ্ছে স্টেভিয়া, (Stevia...