বিশেষ প্রতিনিধি: বহুল আলোচিত সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে তার পরিবার।
রায় ঘোষণার পর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, “একমাত্র মেয়েকে হারানোর সাত বছর কেটে গেলেও বুকের ভেতর সেই যন্ত্রণা আজও তাজা। আজ আদালতের এই সিদ্ধান্তে মনে হচ্ছে নুসরাতের আত্মা কিছুটা হলেও শান্তি পেল।”বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এই বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করেন। ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়।নিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে ৪ আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।রায় প্রকাশের পরপরই সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়ায় নুসরাতদের গ্রামের বাড়িতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকদের ভিড় জমে। এ সময় কান কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুসরাতের মা বলেন, “আমার নিষ্পাপ মেয়েটাকে নির্মমভাবে কেড়ে নিয়েছিল সিরাজ উদদৌলা ও তার সহযোগীরা। এতদিন পর রায়ে ন্যায়বিচার মিললেও পরিবারের নিরাপত্তার চিন্তা আমাদের প্রতি মুহূর্তে তারা করে বেড়ায়।” আসামিপক্ষের অব্যাহত হুমকির কথা উল্লেখ করে তিনি পরিবারের সার্বিক সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে জোরদার পদক্ষেপের দাবি জানান।
মামলার বাদী ও নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, “শুরু থেকেই আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বিচার চেয়ে এসেছি। তবে নিম্ন আদালতের রায়ের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে আসামিদের স্বজনেরা আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। আমরা সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত পরিবেশে বাঁচতে চাই।”এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে সোনাগাজীর ওই এলাকা। সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাশিম জানান, মামলার বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে নুসরাতদের বাড়িসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।

