মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যকার চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ আরও চরম আকার ধারণ করেছে। কানাডীয় গাড়ির ওপর আগের প্রস্তাবিত শুল্ক দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অটোয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—তারাও চুপ করে বসে থাকবে না, সমপরিমাণ পাল্টা কর চাপাবে।দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা হঠাৎ থমকে যাওয়ার পরই এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। দুই পক্ষই চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পেছনে একে অপরকে অভিযুক্ত করছে।ট্রাম্প জানিয়েছেন, কানাডা থেকে আমদানি করা সব ধরনের গাড়ি, ট্রাক এবং যন্ত্রাংশের ওপর আগের প্রস্তাবিত ২৫ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে নতুন বছরের শুরু থেকেই ৫০ শতাংশ করা হতে পারে। তিনি দাবি করেন, চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পেছনে অটোয়ার বাড়তি সুবিধা নেওয়ার প্রবণতাই দায়ী।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপকে কানাডীয় গাড়ি শিল্প ধবংস করার একটি চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন—যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শুল্কের বিপরীতে কানাডাও ‘ডলারের বদলে ডলার’ হিসেবে সমপরিমাণ পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। যদিও তিনি আরও যোগ করেন, ওয়াশিংটন যদি ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসে, তবে কানাডা আবারও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।কানাডার গুরুত্বপূর্ণ অটোমোবাইল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড এই ঘটনায় অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি ওয়াশিংটনে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং খনিজ সম্পদ রফতানির ওপর বাড়তি মূল্য আদায় করার প্রস্তাব তুলেছেন। ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে তিনি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান।অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী কার্নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের বাণিজ্য নির্ভরতা কমাতে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। কানাডার উত্তর ও আটলান্টিক সমুদ্রসীমায় শীতকালীন বাণিজ্য পথ সচল রাখতে প্রায় ১১ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার ব্যয়ে ৬টি বরফভাঙা জাহাজ (আইসব্রেকার) নির্মাণের অর্থায়ন দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই টানাপোড়েনের কারণে উত্তর আমেরিকার তিন দেশীয় বাণিজ্য চুক্তি ‘ইউএসএমসিএ’ (USMCA)-এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদানুযায়ী চুক্তির কিছু শর্তে হঠাৎ পরিবর্তন আনার প্রস্তাব কানাডা প্রত্যাখ্যান করায় সমঝোতা ভেস্তে যায় বলে কানাডীয় কর্মকর্তাদের দাবি।অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, দুই দেশের এই অবস্থান এবং বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের ঝুঁকি শেষ পর্যন্ত উভয় দেশের ব্যবসাকেই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, যা সামগ্রিক উত্তর আমেরিকার অর্থনীতিতে বড় ধরণের মন্দা ডেকে আনতে পারে।

